পদ্মা সেতুর পিলারের উপর বসেছে ‘সুপার স্ট্রাকচার’

পদ্মা সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নং পিলারের উপর বসেছে ‘সুপার স্ট্রাকচার’। ভাসমান ক্রেন দিয়ে স্থাপন করা হয়েছে স্প্যান। যার মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়েছে পদ্মা সেতু। শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শুরু হয় স্প্যান বসানোর কাজ। ক্রেন দিয়ে পিলারের উচ্চতায় এনে বসানো হয় স্প্যানটিকে।

এর আগে গত দুইদিন পিলারের উপর বেয়ারিংয়ের কাজ ও পিলারের কাছে ড্রেজিং সম্পন্ন করা হয়। সম্পূর্ণরুপে সুপার স্ট্রাকচারটি বসাতে আরো সময় লাগবে।.এদিকে স্প্যান বসানোর কাজ পরিদর্শনে জাজিরা প্রান্তে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের যাওয়ার শিডিউল রয়েছে বলে জানিয়েছেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের পাবলিক রিলেশন অফিসার শেখ ওয়ালিদ। স্প্যান স্থাপন এলাকা ঘুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশি-বিদেশি কর্মরত প্রকৌশলীরাও খুবই আনন্দিত, তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং মেধার কারলে পদ্মা সেতু দ্রুতই দৃশ্যমান হয়েছে।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
=====================

বসল স্প্যান, দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান। আজ শনিবার সকাল সোয়া দশটার দিকে সেতুর জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির ওপর প্রথম স্প্যানটি বসানো হয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে স্প্যান বসানোর কাজ তদারকি করেন।

সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৩ হাজার টনের বেশি ওজনের স্প্যানটি ৪ হাজার টন ক্ষমতার একটি ক্রেনে তোলা হয় গত রোববার। এরপর মাওয়া প্রান্ত থেকে ক্রেনটি চালিয়ে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে সময় লাগে দুই দিন। পরের কয়েক দিন প্রস্তুতি শেষে আজ সকালে স্প্যানটি খুঁটিতে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পুরো কাজটি হয় ক্রেন আর প্রযুক্তির সাহায্যে।

এই কাজ দেখার জন্য মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাড়াও সেতু বিভাগ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সেতু বিভাগ। এই বিভাগ সূত্র জানায়, সেতুতে মোট খুঁটি (পিলার) হবে ৪২টি। এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব ১৫০ মিটার। এই দূরত্বের লম্বা ইস্পাতের কাঠামো বা স্প্যান জোড়া দিয়েই সেতু নির্মিত হবে। বর্তমানে ১৬টি খুঁটি নির্মাণের কাজ চলমান আছে। এগুলোতে পর্যায়ক্রমে স্প্যান বসানো হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে আরও অন্তত একটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে সেতু বিভাগের।

পদ্মা সেতুর প্রতিটি খুঁটির নিচে ছয়টি করে পাইল বসানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে পাইলের সংখ্যা ২৪০টি। ইস্পাতের এসব পাইল মাটির নিচে ৯৬ থেকে ১২৮ মিটার পর্যন্ত গভীরে বসানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬৮টি পাইলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও ১৭টি পাইল বসানোর কাজ চলমান আছে।

২০১৪ সালের ১৮ জুন মূল সেতু নির্মাণে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সই করে সরকার। তাতে খরচ ধরা হয় ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। আর নদীশাসনের কাজ করছে চীনেরই আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন। তাদের সঙ্গে চুক্তি হয় ২০১৪ সালের নভেম্বরে। এই কাজের খরচ ধরা হয় ৮ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া দুই প্রান্তে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক, অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

পদ্মা সেতুর প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে প্রকল্পের কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে।

দ্বিতলবিশিষ্ট পদ্মা সেতু হচ্ছে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য (পানির অংশের) ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ডাঙার অংশ ধরলে সেতুটি প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। খুঁটির ওপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হবে, এর ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন।

প্রথম আলো