মুন্সীগঞ্জে ২৮৮টি মণ্ডপে উদযাপিত হচ্ছে দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মুন্সীগঞ্জে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়ার হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জেলার ছয়টি উপজেলায় ২৮৮টি মণ্ডপে এ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। দুর্গাপূজার প্রথম প্রহর থেকে মহালয়া উপলক্ষে মন্দিরে পূজা ঘট স্থাপন করার মাধ্যমে পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

দেবী মায়ের আগমনী বার্তা উপলক্ষে সকাল থেকে প্রার্থনা ও সঙ্গীত বাজানো মাধ্যমে বিশ্ব শান্তির কল্যাণে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। ২৭ সেপ্টেম্বর মহানবমী এবং ৩০ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই বর্ণিল দুর্গোৎসব।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্র জানা যায়, জেলার ছয়টি উপজেলায় সর্বমোট ২৮৮টি মণ্ডপে সার্বজনীন দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৫টি, গজারিয়ায় ৯টি, টঙ্গীবাড়ি ৪৭টি, সিরাজদিখান ৯৭টি, লৌহজং ৩২টি এবং শ্রীনগর উপজেলায় ৬৮টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।

এছাড়াও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের সূত্রে জানা যায়, সবকটি পূজামণ্ডপ ঝুঁকিমুক্ত থাকার পরেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্বে থাকবেন।

এদিকে জেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নের্তৃবৃন্দের সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কমিটির মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সমর ঘোষ বলেন, ‘এবার জেলায় ২৮৮টি পূজা মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হবে। পূজা উদযাপনকালে আমরা রোহিঙ্গাদের স্মরণে ১ ঘন্টা আনন্দ করা থেকে বিরত থাকব। এর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে মুন্সীগঞ্জ থেকে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান পাঠাবো।’

তিনি আরো বলেন, এবার আমরা সকল ধর্মের লোকদেরকে নিয়ে পূজা উদযাপনে একটি কমিটি গঠন করেছি। যাতে করে পূজা সার্বজনীয় হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম (পিপিএম) জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারে দুর্গোৎসব পালন করা হবে। মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নিজস্ব সেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করবে। পূজা নির্বিঘ্নে করতে ইতোমধ্যে জেলা শহর থেকে শুরু করে ৬টি উপজেলায় পুলিশিং টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া আমাদের গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা এখানে কাজ করবে।

প্রিয়
মো. কায়সার হামিদ