আইডিয়াল টেক্সটাইল মিলের নানা অনিয়ম বেরিয়ে আসছে

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: মুন্সীগঞ্জের পশ্চিম মুক্তারপুরে অঘ্নিকান্ডে ৬ শ্রমিকের মৃতু্যর ঘটনা তদন্তে বেরিয়ে আসছে আইডিয়াল টেক্সটাইল মিলের নানা অনিয়ম। পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন না করেই গত দু’বছর কার্যক্রম চালাচ্ছিল প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে থাকা টিনশেডের কারখানার অনুমোদন থাকলেও ৬ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন ছিল না। মিলটিতে আগুন নেভানোর ব্যবস্থায় ছিল ত্রুটি। অপর্যাপ্ত অঘ্নি নির্বাপক যন্ত্র থাকলেও সেগুলো ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ। এ ছাড়া আগুন লাগলে নিরাপদ স্থানে যেতে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। এসব কারণে অঘ্নিকান্ডের সময় ৬ শ্রমিকের মৃতু্য হয়েছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে অঘ্নিকান্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে কমিটির সদস্যরা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। এদিকে গত বুধবার থেকেই কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে মিলটির ৫ শতাধিক শ্রমিক গত তিন দিন কাজে যোগ দিতে পারছেন না। আসম্ন দুর্গাপূজার বোনাস ও বেতন অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় কারখানাটিতে কর্মরত শ্রমিকদের দিন কাটছে দুশ্চিন্তার মধ্যে।

পরিবেশ অধিদপ্তর মুন্সীগঞ্জ কার্যালয়ের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, কারখানাটিকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয় ২০১৫ সালের আগস্টে। এরপর তারা আর পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করেনি।

মুন্সীগঞ্জের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক ইউছুফ হোসেন জানান, মিলটির ভেতরে থাকা টিনশেড কারখানার অনুমোদন থাকলেও ৬ তলা ভবনটির লাইসেন্স নেই।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শওকত আলী মজুমদার জানান, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করা এবং অঘ্নিকান্ডের ঘটনায় কারও অবহেলা থাকলে তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আজ শনিবার তদন্ত কমিটি মিলটি ঘুরে দেখবে।

তদন্ত কমিটির সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মিলটি খুলে দেওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের কাজের জন্য মিলটি নিরাপদ কি-না তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া কর্মরত শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও মানবিক বিবেচনায় গুরুত্ব সহকারে দেখবে প্রশাসন।

গত বুধবার সকালে পশ্চিম মুক্তারপুরের আইডিয়াল টেক্সটাইল মিলে অঘ্নিকান্ডে নারীসহ ৬ শ্রমিকের মৃতু্য হয়। এ ঘটনায় জেনারেল ম্যানেজারসহ ৫ জনকে গ্রেফতার এবং পুলিশ বাদী হয়ে মিলটির মালিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামছুল আলম সবজল ও ৩ পরিচালকসহ ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৬-৭ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করে। গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। বর্তমানে কমিটির তদন্ত চলছে।

সমকাল