আলু এখন মুন্সীগঞ্জের চাষিদের গলার কাঁটা!

আলুর বাম্পার ফলনই এবার কাল হয়েছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের চাষিদের। ফলন ভালো হলেও বাজারমূল্য কম থাকায় হিমাগারে মজুদকৃত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। হিমাগার মালিকদের হিসাবে, প্রতি বস্তা আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণের খরচ হয়েছে গড়ে ১১৫০ টাকা। বিপরীতে, বর্তমান বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা। সে হিসেবে উপজেলায় ১০টি হিমাগারে আটকে থাকা প্রায় আট লাখ বস্তায় লোকসান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৪ কোটি টাকা বেশি।

সময় মত হিমাগার থেকে আলু খালাস না হওয়ায় মালিকদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত খরচ। আর অলস সময় কাটছে খেটে খাওয়া মানুষেরা। এমন অবস্থায় এসব আলু বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ হিসেবে বিতরণ ও রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশে কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন।

আলুচাষি বাবুল মিয়া জানান, কোরবানি ঈদ সামনে পরিবারের মুখে তাকানো যায় না। আলুতে প্রায় আট লাখ টাকা লোকসান হয়েছে তার। একাধিক কৃষক জানান, যেসব কৃষক জমি থেকে আলু কোল্ডস্টোরেজে সংরক্ষণ করেছেন, বর্তমান বাজারমূল্যে আলু বিক্রি করা হলে তাদের বস্তাপ্রতি লোকসান গুণতে হবে ৩০০ টাকা। আর যারা আলু কিনে সংরক্ষণ করেছেন, তাদের বস্তাপ্রতি লোকসান গুণতে হবে ৪০০ টাকা। অথচ খুচরা বাজারে এখনো প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবনাম কোল্ডস্টোরেজের ম্যানেজার মতিউর রহমান মতিন জানান, সংরক্ষিত আলু বিদেশে রপ্তানি করার ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলে লোকসানের পরিমাণ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে। বস্তাপ্রতি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উৎপাদন খরচ পড়েছে ১১৫০ টাকা। আর বর্তমানে প্রতি বস্তা আলুর মূল্য ৮০০ টাকা। এ হিসাবে আলুর বস্তাপ্রতি লোকসান ৩০০ টাকা। দাম অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় আলুর উৎপাদন খরচই উঠছে না। ফলে আলু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সিরাজদিখানের কৃষকেরা। অথচ আলুর চাহিদা ও ব্যবহার মোটেই বাড়েনি। ফলস্বরূপ দেশের ৩৯০টি হিমাগারে এখনো অবিক্রীত অবস্থায় রয়ে গেছে ৪০ লাখ টন আলু। সংশি¬ষ্টদের আশঙ্কা, হিমাগার থেকে আলু বিক্রির যে গতি তাতে বর্তমান মওসুমের যে চার মাস বাকি আছে তাতে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন অবিক্রীত থেকে যাবে। সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বেন দেশের লাখ লাখ আলুচাষি।

পূর্ব পশ্চিম