মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া): কোন্দলে আটকা আ.লীগ

মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) সংসদীয় আসনে কোন্দল আছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতেই। তবে তুলনামূলকভাবে আওয়ামী লীগে তা অনেক বেশি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আসনে টানা দুই বার আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সে কারণে উন্নয়ণমূলক কার্যক্রমও হয়েছে ধারাবাহিকভাবে। তাই ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়ার সুযোগ বেশি আওয়ামী লীগেরই। তবে এই সুযোগ আওয়ামী লীগ কতখানি কাজে লাগাতে পারে, তা নির্ভর করছে দল নিজেদের কোন্দল কতখানি মেটাতে পারে- তার ওপর।

টানা দুই বার আওয়ামী লীগের এমপি হলেও আসনটি আওয়ামী লীগের দূর্গ নয়। কারণ এর আগের টানা তিনবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল বিএনপি থেকে। আওয়ামী লীগের টানা দুই বারে দুই প্রার্থী নির্বাচিত হলেও বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন একই প্রার্থী। তাই কোন্দল তুলনামূলক আওয়ামী লীগেই বেশি। তবে এই আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) ভোটও আছে। এখানে তাদের এমপিও ছিল এক সময়। আওয়ামী লীগ ও জাপা জোটভূক্ত হলে তারা এগিয়েই থাকবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তবুও তা হোঁচট খেতে পারে কোন্দলের কাছে।

১৯৭৩ সালে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সামছুল হক, ১৯৭৯ সালে বিএনপির আবদুল হাই, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির নুর মোহাম্মদ। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও বিএনপির আবদুল হাই নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এম ইদ্রিস আলী এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মৃণাল কান্তি দাস নির্বাচিত হন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী চারবার করে নির্বাচিত হয়েছিল। তবে ভিন্নতা হচ্ছে বিএনপির একই প্রার্থী চারবার এবং আওয়ামী লীগের চারবারে চারজন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর সে কারণে এখানে নৌকার টিকিট প্রত্যাশীও বেশি। রাজনীতির স্বাভাবিক হিসেবে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্ধি বিএনপিও চাইবে আওয়ামী লীগের এই কোন্দলকে কাজে লাগাতে।

আওয়ামী লীগের চার নেতা রয়েছেন স্থানীয় রাজনীতির মাঠে। তাঁরা হলেন- বর্তমান সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলী, জেলার সহ-সভাপতি আনিছুজ্জামান আনিছ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ লুৎফর রহমান।

জানতে চাইলে মৃণাল কান্তি দাস বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, বিএনপির কোন্দল তুলনামূলক কম- এই তথ্যে ত্রুটি আছে। বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগে কোন্দল বেশি- এটিও মনে করেন না তিনি।

আগামী নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান। স্থানীয় সংসদ সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড অনেক কার্যকর। সংসদীয় ৩০০ আসনের বিপরীতে অনেক প্রার্থী থাকতে পারেন। একটি আসনে সমযোগ্যাতার অনেক প্রার্থীও থাকতে পারেন। তাদের মধ্যে প্রতিযোগীতা আছে, প্রতিদ্বন্ধিতাও আছে। নির্বাচন করতে গেলে, যারা দলীয় শৃঙ্খলায় বিশ্বাস করেন, তারা মনোনয়ন বোর্ড বা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তাকে জিতিয়ে আনতে ছুটবেন। এখানে মতান্তর থাকবে না বলেও মনে করেন তিনি।

তবে দলের দুর্দিনে নেতা-কর্মীদের পাশে থাকেন না, পলায়ন মনোবৃত্তির কাউকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেবে না বলেও বিশ্বাস করেন তিনি।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃত্বের একটি অংশের সঙ্গে মৃণাল কান্তি দাসের বিরোধ রয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই। যে কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীরা দুই নেতার আশির্বাদপুষ্ট হয়ে বিভক্তিতে ভূগছেন। এদিকে এই বিরোধের সুযোগে সাবেক সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলীও প্রবাস জীবন থেকে এসে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সরব হয়ে উঠেছেন।

সম্ভাব্য আরেক প্রার্থী আনিছুজ্জামান আনিছও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দুই দফায় সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে তার যোগাযোগও রয়েছে বেশ। আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল হাই আবারও বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন। তবে তা শতভাগ নিশ্চিত নয়। কারণ সার্বিক বিবেচনায় নতুন মুখও আসতে পারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামছুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবুও এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

মুন্সিগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাতেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুজ্জামান দিদার লাঙ্গল মার্কার মনোনয়ন চাইবেন বলেও জানা গেছে।

বাংলা ইনসাইডার
মাহমুদুল আলম