জগন্নাথের অব্যবস্থাপনার খেসারত ভর্তি পরীক্ষার্থীদের

কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার কারণে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ই’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলার সময় কয়েকটি বিভাগের সান্ধ্যকালীন ক্লাস চালু রাখায় চরম বিশৃঙ্খলা ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক সহকারী প্রক্টর।

বিকাল ৩টায় ‘ই’ ইউনিটের ১৫০টি (সংগীত বিভাগ-৪০টি, চারুকলা বিভাগ-৪০টি, নাট্যকলা বিভাগ-৪০টি এবং ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ-৩০টি) আসনের জন্য এক ঘণ্টার ভর্তি পরীক্ষা ছিল। একই সময়ে সান্ধ্যকালীন এমবিএর ক্লাসসহ বিভিন্ন রুটিন কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল।

নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ভবনে পরীক্ষাকেন্দ্র বসানো হয়, সেগুলোর ফটক দিয়ে পরীক্ষার্থী ছাড়া আর কেউ ঢুকতে পারেন না। সেজন্য পরীক্ষার সময় সংশ্লিষ্ট ভবনে রুটিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকে, ফটকে তল্লাশি করে ঢুকানো হয়।

কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একমাত্র প্রবেশপথে শুক্রবার একই সময়ে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীরাও প্রবেশ করতে থাকে। তাদের সঙ্গে ব্যাগ, মোবাইল ও ল্যাপটপও দেখা যায়। তাতে ফটকে ব্যাপক ভিড় জমে এবং পরীক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধার সৃষ্টি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মূল ফটকে সান্ধ্যকালীন শিক্ষার্থীদের ভিড় ঠেলে অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। সে কারণে দেরি হলে তাদের পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

মেয়ে ফারিয়ার পরীক্ষার জন্য তাকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহী থেকে এসেছিলেন আবদুল ওয়াদুদ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা করেও মেয়েকে ফটকের কাছেই নেওয়া যায়নি। গেইটে তখন ঝামেলা চলছিল, সেই পরিস্থিতিতে পড়ে কিছুক্ষণ পর ৩টার দিকে গেলে কেন্দ্রে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।”
ভিড় ও ঠেলাঠেলির মধ্যে শেষ পর্যন্ত বেলা ৩টার পাঁচ মিনিট আগে গেটের কাছে গেলেও মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা রাশেদ মণ্ডলকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

এরকম বিশৃঙ্খলার কারণে বেশ কয়েকজন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলে জানান ফটকে শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত রোভার স্কাউটের একাধিক সদস্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সহকারী প্রক্টর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পরীক্ষা চলার সময় সান্ধ্য প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জানিয়ে সব কিছু বাতিল করা উচিত ছিল। ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে এরকম বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া যায় না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচটি দিন ভর্তি পরীক্ষা হয়। এ দিনগুলো কেন অন্য কোনো কার্যক্রম থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ে?

“আমাদের প্রক্টরিয়াল বডিকে আসন বরাদ্দের তালিকা পর্যন্ত দেয়নি পরীক্ষা কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাত হাজার শিক্ষার্থীর একসঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলে কেন বিছিন্নভাবে সব ভবনে মাত্র দু হাজার ভর্তি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষার আসন বিন্যাস করা হবে?”

পরীক্ষার সময় ক্লাস চালু রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান বলেন, ভর্তি পরীক্ষার কারণে ৩টার ক্লাস সাড়ে ৩টায় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ইভিনিং এমবিএর শিক্ষার্থীরা একই সময়ে ঢুকেছে।

“একটু মিস ম্যানেজমেন্টের কারণে আজ আপনি এ প্রশ্নটি করতে পেরেছেন। এর কারণেই একটু বিশৃঙ্খলা হয়েছে।”
ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে অর্থনীতি বিভাগের আয়োজনে একটি সেমিনার চলছিল, সেখানকার অংশগ্রহণকারীরাও ভর্তিচ্ছুদের প্রবেশের সময় মূল ফটক দিয়ে যাতায়াত করেন।

এ বিষয়ে বিভাগটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সেমিনার সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে। আমাদের সেমিনারের কারণে তো ভর্তি পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবার কথা নয়। আমরা এটা তো বন্ধের দিনে আয়োজন করেছি।”

তবে কিছুক্ষণ পরে তিনি ফিরতি কল করে বলেন, “আমাদের সেমিনারটি দুপুর ২টায় শেষ করে ফেলেছি ভর্তি পরীক্ষার কারণে।”

এ বিষয়ে ‘ই’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও কলা অনুষদের ডিন অ্যধাপক মোহাম্মদ সেলিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা একটি পাবলিক পরীক্ষা। সবাই জানে কত তারিখে কোন অনুষদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

“পরীক্ষাকালীন সময়ে ক্যাম্পাসে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্য কারো উপস্থিত থাকা আইনত নিষেধ। তারপরও কেন পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে একাডেমিক কার্যক্রম চালু ছিল এটা আমি জানি না। এ ব্যাপারে আমি উপাচার্য স্যারকে অবহিত করব।”

পরীক্ষার শুরুর আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “যারা পরীক্ষা শুরুর আগে এসেছে, তাদের কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়নি। তবে মিসম্যানেজমেন্ট ছিল।”

বিডিনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *