সড়ক নাকি নালা?

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দুর্গাবাড়ি সড়কে পিচ ও খোয়া তো দূরের কথা, কোথাও ইটের চিহ্ন পর্যন্ত নেই। সড়ক অনেকটা নালার মতো। এতে জন্মেছে শেওলা। আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এই সড়কে যাতায়াতকারী স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসী খুব কষ্টে চলাচল করছে। সড়কের কোথাও কোথার নালার মতো পানি জমে আছে। পানিতে শেওলা জমে গেছে। আবর্জনাও পড়ে আছে। মানুষ সড়কের সামান্য শুকনো জায়গা দিয়ে কোনো রকমে চলাচল করছে।

স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্গাবাড়ির সড়কটি ইউনিয়নের ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়েছে। তবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গাবাড়ি ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জোড় পুকুরপাড় ছাড়াও রামেরগাঁও, চম্পাতলা, রতনপুর, মহাকালীসহ প্রায় ১০ এলাকার মানুষ নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করে। এলাকাবাসী জানান, ২৩ বছরের বেশি সময় ধরে এ সড়ক মেরামত করা হয়নি। ধীরে ধীরে সড়কির বিটুমিন-পাথর, খোয়া, ইট সব উঠে গেছে। এখন এটি মাটির সড়কে পরিণত হয়েছে। পাঁচ বছর আগেও সড়কটি চলাচলের কিছুটা উপযোগী ছিল। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন খাল-পুকুর ভরাট হওয়ায় এবং সড়কটি বসতভিটা থেকে অনেক বেশি নিচু হওয়ায় বৃষ্টির সময় এটি হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়। শুকনা মৌসুমে বসতবাড়ির ময়লা-আবর্জনা পানিতে মিশে যায়।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তো ভ্যাট-ট্যাক্স নিয়মিত দিচ্ছি। জনপ্রতিনিধিরা ও প্রশাসন যদি চায় আমরা আরও দেব। তারপরও তারা আমাদের সড়কটি ঠিক করুক। রাস্তার পাশের ড্রেনও নির্মাণ করা হোক।’

ওয়ার্ডের আরেক বাসিন্দা মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের রাস্তার এই অবস্থা জনপ্রতিনিধিরা দেখছেন। আমরা নিজেরাও তাঁদের অনেকবার বলেছি। তারপরও কোনো কাজ হচ্ছে না। আমাদের স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েরা যে কী কষ্টে আছে তা এই রাস্তায় কেউ চলাচল না করলে বুঝতে পারবে না।’

৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. দিদার হোসেন গত শনিবার এ পথে যাওয়ার সময় বলেন, ‘আমরা দুর্গাবাড়ির এ রাস্তা দিয়া মুক্তারপুর যাতায়াত করি। শুষ্ক মৌসুমে এ রাস্তা কাদা আর ময়লা পানিতে ভরে থাকে। আর বর্ষাকালে তো কথাই চলে না। বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি হয়। পানিতে ময়লা ভাসে। ১০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা দিলেও কোনো গাড়ি এ পথে আসতে চায় না।’

৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই এলাকা মুন্সিগঞ্জ জেলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এ সড়কের বিষয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। হয়তো উনি কোনো ব্যবস্থা নেবেন।’

ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এ সড়ক মেরামতের ব্যাপারে আমার সঙ্গে এলাকার কেউ কথা বলেনি। যদি বলত, তাহলে আমি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তা পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করতাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সড়কের নির্মাণকাজ আমার ইউনিয়নের ওপর বর্তায় না। আমি এলজিইডির কাছে একটি আবেদন করেছি। স্থানীয় সাংসদের সঙ্গেও কথা বলেছি। দেখি উনারা কী করেন।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মুন্সিগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে এই সড়কের জন্য ঢাকায় একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করি, খুব শিগগিরই সড়কটির কাজ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদিও এ ধরনের (ইউনিয়নের) সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের দায়িত্ব আমাদের; তবু আমাদের আর্থিক সমস্যা থাকলে ইউনিয়ন পরিষদ চাইলে সংস্কার করতে পারে।’

প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *