বর্ষায় আড়িয়াল বিল ভ্রমণ

ষড় ঋতুর দেশে প্রকৃতি যেমন পরিবর্তন হয় নানা রূপ বদলের মাধ্যমে, সে পরিবর্তনের হাওয়া লাগে আড়িয়াল বিলেও যা ভ্রমণ পিপাসু ও প্রকৃতি প্রেমীদের প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। বর্ষা এলে আড়িয়াল বিল পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। ঢেউহীন এক পানির রাজ্য আড়িয়াল বিল। টলটলে জল-জঙ্গলে মাথাচাড়া দেয় শাপলা ফুল। সবুজের সমারোহে বুদ হয়ে পড়ে জোড়া চোখ। নীলচে পানিতে স্পষ্ট হওয়া সাদা মেঘের প্রতিবিম্ব দেখে যে কেউ মায়াবী জগতের ভাবনায় ডুবে যেতে পারবে। বাংলা সাহিত্যে-সংস্কৃতির লীলাভূমি বিক্রমপুর। বিক্রমপুরের বর্ষা না দেখলে শিল্প, সাহিত্য আর সংস্কৃতির প্রেমিক হিসেবে নিজের পরিচয়টাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বর্তমানে বর্ষায় বিক্রমপুরের আগের সেই সৌন্দর্য আর নেই, তবে আড়িয়াল বিলে বর্ষায় তার কিছুটা ছাপ এখনও পাওয়া যায়। যেদিকে চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে আপনাকে আসতেই হবে আড়িয়াল বিলে।

আড়িয়াল বিল দেশের মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন বিল। এর প্রতিবেশ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে হাজার বছর ধরে। ধারণা করা হয়, অতি প্রাচীন কালে এ স্থানে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গমস্থল ছিল, পরে উভয় নদীর প্রবাহ পরিবর্তনের ফলে এই স্থান শুষ্ক হয়ে বিলে পরিণত হয়। ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ জেলা এবং পদ্মা নদীর মাঝখানে একটি ছিটমহলসম জলাভূমি এ আড়িয়াল বিল। কিছুটা হলেও ঋতুময় বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়, বিলের সান্নিধ্যে গেলে। সবচেয়ে বেশি সৌন্দর্য ফুটে ওঠে বর্ষায়।

আড়িয়াল বিলে যাবার সুবিধা হলো, ঢাকা থেকে খুব সকালে গিয়ে সন্ধ্যার মধ্যেই ফিরে আসা যায়। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এ তিন মাস বিলের চারপাশ থৈ থৈ করে পানিতে। চারপাশ টইটম্বুর পানিতে বিলে ভিটার উপর ঘরগুলো মাথা তুলে আছে, সঙ্গে মাথা তুলে হাঁক দিচ্ছে বুক অথবা মাথা সমান পানিতে নিমজ্জিত বড় বড় গাছ। বিলের লোকজনকে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে, এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায়, মসজিদ, মন্দির ও বাজারে যাওয়ার জন্য ছোট ছোট ডিঙ্গী নৌকা ব্যাবহার করে থাকে । আড়িয়াল বিলে বেড়িয়ে আবার গাদিঘাটে এসে ফেরার ব্যাটারিচালিত রিকশা পাবেন। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর বাজার থেকে একটি সড়ক এঁকেবেঁকে সোজা চলে গেছে আড়িয়াল বিলের দিকে।

গাদিঘাট থেকেই আড়িয়াল বিলের শুরু। সেখান থেকে সর্পিল আঁকাবাঁকা একটি খাল চলে গেছে বিলের ভেতরে। এখানকার জলাশয়ের স্বচ্ছ জল কোথাও গভীর কোথাও অগভীর। নিচে মাটি বা বৈচিত্রময় জলজ উদ্ভিদ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সামনে পেছনে কচুরিপানার ঝোপ। জলজ উদ্ভিদের মধ্যে কলমিই বেশি চোখে পড়ে। দিনের আলো ফুটে ওঠায় শাপলারা ঘুমিয়ে পড়েছে। শাপলা দেখতে হলে খুব সকালে আসতে হবে বিলে তবু কিছু ঘিয়ে আর নীল রঙা শাপলা তাদের অস্তিত্ব জানান দিয়ে চলেছে। বিলের যত গভীরে যাবেন, সৌন্দর্য যেন ততই ঠিকরে বের হয়।

যেভাবে যাবেন: ঢাকার গুলিস্তান থেকে মাওয়াগামী যে কোনো বাসে চড়ে নামতে হবে শ্রীনগরের ভেজবাজার। ভাড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা। সেখান থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে সোজা যেতে হবে গাদিঘাট। ভাড়া ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা।

প্রিয় ডট কম