গজারিয়ায় চোরাই গরুর খামার আবিস্কার ॥ লুন্ঠিত ৯ গরু উদ্ধার, আটক ৫

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর গ্রামে চোরাই গরুর খামার আবিস্কার হয়েছে। পুলিশ চোরাই নয় গরু উদ্ধার করেছে। গ্রামটির তদবির মিয়া ও তোফায়েল মিয়ার চোরাই গরু দিয়ে খামার তৈরী করে। আর এই খামার থেকেই চোরাই গরু বিক্রি হচ্ছিল নানাভাবে। পরে পুলিশ তথ্য পেয়ে অভিযান চালিয়ে গরুগুলো উদ্ধার করে। তবে টের পেয়ে পালিয়ে যায় তদবির মিয়া ও তোফায়েল মিয়া।

বুধবার বিকাল ৪টায় উপজেলার ইমামপুর গ্রমের মৃত মজিদ হাজীর বাড়ীতে ঢাকার ডেমরা থানায় গরু চুরির মামলার এই অভিযান চলে। মোঃ পারভেজের (৪০) অভিযোগের পুলিশ অনুসন্ধানে নামে।

ডেমরা থানার এস আই আক্তার ও এস আই হুমায়ন জানান, ঈদের আগে ও পরে একাধিক গরু চুরির মামলার ইমামপুর গ্রামের মৃত মজিদ হাজীর ৩ ছেলের দেয়া গরুর খামারে চোরাই করা ৯টি গরু উদ্ধার করা হয়। তারা আরও জানান, ঈদের আগে ও পরে ৩০টি গরু ডেমরা এলাকা থেকে চুরি করে এ খামারে রাখা হয়েছে। খামারে থাকা ৯টি গরুর সবই চোরাই করা গরু।

ইমামপুর গ্রামের হাজী আজিজুর রহমান জানান, তোফায়েল ও তবদীর প্রায়ই ভোর রাতে গাড়িতে করে গরু এনে তাদের খামারে রাখে। পরে বিভিন্ন হাটে এ গরু বিক্রি করে চলছিল। গরুর ব্যবসা করে তাই জানি। যাত্রাবাড়ি থানায় গরু চুরির মামলার বাদী মোঃ শাহবুদ্দিন(৫০) জানান, ২৬ আগস্ট রাতে মাতুয়াইল তার নিজ বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া ছয়টি গরুর একটি এই ইমামপুরের খামারে পাওয়া গেছে। গজারিয়া থানার এস আই মোনেয়াম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এই খামেরর মালিকদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। খামরের সনাক্ত হওয়া ৩টি গরু ট্রাকে করে ডেমরা নেয়া হয়।

ডেমরা থানা পুলিশের এসআই মোঃ আতিকুর রহমান জানান, সম্প্রতি ঢাকা ও তার আশপাশের কয়েটি এলাকায় অভিনব উপায়ে গরু চুরি করত সংঘবদ্ধ একটি চক্র। মঙ্গলবার রাতে এই চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করে ডেমরা থানা পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবার এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি জানান, চক্রটির ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের এলাকায় সুকৌশলে গরু চুরি করত। আধুনিক অস্ত্র সজ্জিত এই ডাকাত দলটি অস্ত্রের মুখে লোকদের জিম্মি করে ডাকাতিও করেছে। সুবিশাল এক চক্রের সদস্য সংখ্যা কত তা সঠিকভাবে নিরূপণ করা না গেলেও বিভিন্ন এলাকায় তাদের যে এজেন্ট রয়েছে এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত। সম্প্রতি কোরবানির ঈদের আগেও চক্রটি ঢাকার ডেমরা, মাতুয়াইলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরি করেছে। ডেমরা থানা সূত্রে জানা গেছে, আটকৃতদের বিরুদ্ধে ডেমরা, সাভার ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় অর্ধ ডজন মামলা রয়েছে।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *