মুন্সীগঞ্জে লঞ্চের ধাক্কায় পা গেল ২ কিশোরের

মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালে ভাণ্ডারিয়াগামী লঞ্চের ধাক্কায় দুই কিশোরের পা মারাত্মকভাবে কেটে গেছে। চিকিৎসক বলেছেন, একজনের একটি পা নিশ্চিত ফেলে দিতে হবে। দু’জনের চারটি পা ঝুঁকিতে রয়েছে।

গুরুতর আহত মোস্তফা (১৭) ও রাশেদকে (১৭) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঈদুল আযহা’র দিন শনিবার সন্ধ্য ৭টার দিকে ঢাকা থেকে ভাণ্ডাারিয়া হুলারহাটগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘আওলাদ-২’ এর ধাক্কায় এ ঘটনা ঘটে। এই দু’কিশোর তাদের কর্মক্ষেত্র মুন্সীগঞ্জ থেকে বাড়ি যাওয়ার লঞ্চের জন্য অপেক্ষা করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী লঞ্চঘাটের দোকানদার মো. হাসান জানান, সন্ধ্যার দিকে লঞ্চঘাট হঠাৎ করেই টার্মিনালের অনেক ওপরে উঠে যায়। তারা এই লঞ্চে উঠার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এতে দু’ কিশোরেরই পা লঞ্চটিতে চাপা খায়। একজনেরর একটি পায়ের একাংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পানিতে পড়ে যায়।

এই দোকানী আরও জানান, নদীতে স্রোত এবং আকস্মিক বাতাসের কারণে লঞ্চটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। লঞ্চটি ঘাটে নিয়মিত ভিড়ে। ঘটনার সময় ঘাটের লোকজনও উপস্থিত ছিল। ঘটনা ঘটিয়েই লঞ্চটি দ্রুত চলে যায়। ঘাট কর্তৃপক্ষও লঞ্চটি থামানোর চেষ্টা করেনি।

লক্ষ্মীপুরের এই দু’কিশোর দরিদ্র ঘরের সন্তান। মুন্সীগঞ্জে তারা দিন মজুরিসহ নানা ধরণের কাজ করতো। সেই উপার্জনের টাকা নিয়ে এবং কোরবানীর মাংস নিয়ে বাড়ি ফিরছিল পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার জন্য। কিন্তু তাদের ভাগ্যে তা হলো না। বরং হাসপাতালের বিছানায় এখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে তারা। তাদের পরিবারের ঈদের আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ড. প্রণয় চন্দ্র জানান, ছেলে দুটো মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। একজনের একটি পা নিশ্চিত ফেলে দিতে হবে। দু’জনের চার পাই ঝুঁকিতে আছে। আমরা তাদের ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি।

মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, ঘটনাটি আমরা তদন্ত করে দেখছি। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *