মিলিয়ে দেখবেন প্লিজ!

আরিফ হোসেন: আবেগপ্রবন জাতি হিসেবে আমাদের বেশ পরিচিতি আছে। অল্পতেই কোনকিছু নিয়ে মেতে উঠি আবার উত্তেজনা থেমেও যায় খুব তাড়াতাড়ি। অনেকটা তারা বাতির মত! জ্বলে উঠতে না উঠতেই শেষ। তনু হত্যাকান্ডের পর সারা দেশে আন্দোলন হয়েছিল। ফল কি? নীতি নির্ধারকরা জানতেন মাত্র কয়েকটা দিন। এর পরই তো সব ঠান্ডা ! জাতি হিসাবে আমাদের এই মাতামাতি সফলতার বেলায়ও। ধরে রাখার ক্ষমতা আমাদের কম। আমরা ধরে রাখতে পারছিনা ৭১ এর চেতনা। আমরা ধরে রাখতে পারিনি ৭১ এ সকল ধর্ষিতার পিতা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকেও । এখনতো ধর্ষনের বিচার চাওয়াও কোন কোন ক্ষেত্রে অন্যায়। তুফানের যে জোড়ালো তান্ডবরে বাবা! তা আমরা দেখেছি বগুড়ায়।

প্রতিদিনই সংবাদের শিরোনামে উঠে আসছে ধর্ষনের ভয়াবহ চিত্র। আগষ্ট মাসে সারা দেশে এর সংখ্যা ১০২! আবার দেখলাম ধর্ষনের কথা স্বীকার করেছে বলে জামিনও হয়ে গেছে। সব সম্ভবের দেশ বলেই কথা !

চারদিকে ধর্ষকদের অট্ট হাসি, দখলে মেতেছে দখলবাজরা, লুট করছে লুটেরার দল, পাচার করছে শতশত কোটি টাকা। তাদের বেলায় ক্রস ফায়ার নেই, বন্দুক যদ্ধ নেই। আসালে তাদের শাস্তি দিবার মতো কেউ নেই !

কিন্তু পেটের দায়ে চুরি করা এক শিশুর মাথায় পা দিয়ে আঘাত করার অনেকেই আছে। আসলেই আমাদের মাথায় পা তোলার মতো অনেকেই আছে। কিন্তু হাত রাখার মতো কেউ নেই। আমরা দেখেছি তনুর বাবা-মায়ের মাতার উপর কি আশ্চর্য রকম শূন্যতা।

শেয়ার বাজার, ডেসটিনি, হলমার্ক ঋণ কেলেঙ্কারির পর সারাদেশে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। টিভি নিউজ, পত্রিকার হেড লাইন, সম্পাদকীয়, কলাম, টকশো সব খানেই ছিল হটকেক আইটেম। মানুষ ভাবল হয়তো এবার একটা দফারফা হবে। সেই সময়ে একদিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তির্যক প্রশ্নবানে প্রায় নাজেহাল হচ্ছিলেন আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী। বেচারা অর্থমন্ত্রী তখন চাপ সামলাতে গিয়ে বুঝে কিংবা না বুঝে বলছিলেনঃ “এই ৪০০০ কোটি টাকা সামান্য কয়েকটি টাকা।

কোন হিসেবের উপর নির্ভর করে অর্থমন্ত্রী এই কথা বলতে পারেন তা আমাদের মাথায় ঢুকতে অনেক সময় লেগেছে। আসলে যে হলমার্কের দুর্নীবতি বড় কিছুনা তার প্রমান পাওয়া গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা ফিলিপাইনে যাওয়ার পর! বুঝেছি কেন অর্থ আতœসাতের পরও বেসিক ব্যাংকের বাচ্চুকে দুর্নীতির মামলায় আসামী করা হয়না।

আবার এও হতে পারে লক্ষ কোটি টাকার বাজেট প্রনয়ন করা এই মানুষটির কাছে ৪০০০ কোটি টাকা অতি সামান্যই ছিল। আবার এমনও হতে পারে এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা লুট/দুর্নীতি হতে দেখেছেন তিনি কাছ থেকে। যার খবর আমরা কখনো পাইনা, পাবনা।কেমনে পাব? বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের নির্দিষ্ট একটি কক্ষেই যে আগুন লাগে!

তাই হয়তো ৪০০০ কোটি টাকা তার কাছে সামান্য। কিন্তু মিঃ মিনিস্টার এক পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ তত বড় নয় যত বড় সারি এখন সারা দেশে অর্ধাহারে ঘুমাতে যাওয়া বন্যার্ত অঞ্চলের শিশুদের। পেটের দায়ে লবন হীন সিদ্ধ শাপলা খেয়ে বেঁচে থাকা চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের লাইন। দীর্ঘতর লাইনের মিছিলে বেড়েই চলেছে, স্কুল কক্ষে ঢুকে শিক্ষিকা, মাকে বেধে মেয়েকে, ধর্ষনের পর মা-মেয়েকে নেড়া, চলন্ত বাসে ধর্ষনের পর হত্যা, ধর্ষকের জামিনের মতো হেড লাইনের সংখ্যা!

মাননীয় মন্ত্রী আপনার বাজেটে কতটাকা থাকে দেশের আইন শৃংখলা রক্ষার জন্য? অসহায় মানুষের মুখে আহার তুলে দেওয়ার জন্যই বা বাজেট কত? কোনটাই আমার জানা নেই। তবে আপনি হয়তো জানেন। মাননীয় অর্থমন্ত্রী আপনার সেই সামান্য ৪০০০ কোটি টাকা = কত কোটি মানুষের বঞ্চিত মুখ? এই হিসাবটা একটু মিলিয়ে দেখবেন প্লিজ।

সাধারণ সম্পাদক
শ্রীনগর প্রেস ক্লাব
arif_nirobs@yahoo.com