পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যানটি বসছে অক্টোবরে

কয়েক দফা পিছিয়ে অবশেষে পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যানটি বসছে আগামী মাসে। এর মধ্যে চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করে ফেলা হয়েছে স্প্যান বসানোর জন্য সেতুর দুটি পিলার। তবে, স্প্যান বসানোর বিশেষ ক্রেনটি আসা যাওয়ায় বাধা হয়ে উঠতে পারে নদীর গভীরতা।

এক্ষেত্রে নদীর তলদেশ থেকে পলি সরিয়ে পথ করে নেয়ার কথা বলছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

আশ্বিনের নীল আকাশ, অথচ থেমে থেমে এখনো বৃষ্টি। উত্তাল তাই নদী। তীব্র ঢেউয়ের সাথে পাল্লা দিতে না পেরে প্রায় বন্ধ থাকে নদীতে যান চলাচল।

বর্ষা মৌসুমে নদীর এ বেপোরোয়া রূপ প্রভাব ফেলছে পদ্মা সেতুর কাজে। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় জাজিরা প্রান্তে নদীর ভেতরে চ্যানেল কেটে নেয়া হয়েছে। আর সেখানে ঢেউ কম থাকায় এখন কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে।

পাইল বসানোর কাজে নানা জটিলতা সত্ত্বেও জাজিরা প্রান্তের কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। সব মিলে ৪২টি পিলারের ২৫২টি পাইলের মধ্যে পুরোপুরি বসানো হয়েছে ৫০টি। এছাড়া ৬৭টি পাইলের নিচের অংশ নদীর তলদেশে প্রবেশ করানো হয়েছে।

আর কংক্রিটিংয়ের কাজও শেষ করে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে ফেলা হয়েছে ৩৭ ও ৩৮ নাম্বার পিলার। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে এ দুটি পিলারের মধ্যে প্রথম স্প্যানটি বসাতে সময় লাগবে অক্টোবর মাস পর্যন্ত।

পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিলো আগস্টের মধ্যে কাজটি করা। আমাদের পরিকল্পনা হয়ে গেছে কিভাবে কি করবো। এখন সক কিছু আমাদের আয়ত্বের মধ্যে আছে। বৃষ্টির জন্য দু-একদিন এদিক সেদিক হয়।’

নদীর পাড় থেকে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যে ও ৩ হাজার টন ওজনের এক একটি স্প্যান পিলারের কাজে নিয়ে যেতে ব্যবহার করা হবে বিশ্বের সবোর্চ্চ শক্তিসম্পন্ন ৩৬শ মেট্রিক টন ওজন বহনের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ক্রেন। এটি নদীতে চলাচল করতে ৫ মিটার গভীরতা প্রয়োজন হলেও সাধারনত পদ্মায় পানির গভীরতা থাকে ৩ মিটার। সেক্ষেত্রে নদীর পলি সরিয়ে করতে হবে এ কাজ।

পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সামনে দিয়ে ড্রেজিং করতে করতে যাবো আর পেছন দিয়ে স্প্যানটা নিয়ে যাবো।’

হ্যামার জটিলতার কারণে কাজ ব্যহত হলেও গত মাসে প্রকল্পে যোগ হয়েছে ১৯শ কিলোজুলের নতুন একটি হ্যামার। বর্তমানে তাই মোট দুটি হ্যামার দিয়ে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মূল সেতুর কাজ ৬২. ৮৫ ভাগ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয়েছে ৪৬. ৯০ ভাগ।

সময় টিভি