জাতীয় শোক দিবসের আয়োজনে টোকিও দূতাবাস

রাহমান মনি: জাপানের রাজধানী টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যে জাতীয় শোক দিবস ২০১৭ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করে দূতাবাস। দুটি পর্বে ভাগ করা দূতাবাসের কর্মসূচির সকালের পর্ব ছিল সকলের জন্য উন্মুক্ত এবং বিকেলের পর্ব ছিল আওয়ামী ঘরানা লীগ সংশ্লিষ্টদের জন্য।

সকালের কর্মসূচিতে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা দূতাবাস কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ ও জাপানে বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দূতাবাস ভবনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে শোক দিবসের সূচনা করেন। এ সময় সকলে সমবেত কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন।
এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকা-ের শিকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং শাহাদাৎ বরণকারী সকলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

নীরবতা পালন শেষে জাতির জনক, তার পরিবারের সদস্যবৃন্দ, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন দূতাবাস কর্মকর্তা।

এরপর বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক দিবসটির তাৎপর্যে প্রদত্ত বাণীসমূহ যথাক্রমে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা, ইকোনমিক মিনিস্টার ড. সাহিদা আকতার, কমার্স কাউন্সিলর মো. হাসান আরিফ এবং প্রথম সচিব (শ্রম) জাকির হোসেন পাঠ করে শোনান।

বাণী পাঠ শেষ হলে, সংক্ষিপ্ত আলোচনায় প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানালে আওয়ামী লীগ সদস্যরা আলোচনায় অংশ নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
এভাবেই সকালের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলে চা-চক্রের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হয়।

দ্বিতীয় পর্বে শুধু লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং নামে মাত্র দু’চারজনকে দাওয়াতপত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রদূত কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের অভ্যর্থনা আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। নামের সঙ্গে লীগ সংশ্লিষ্টতা থাকলেই তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রবাসী সমাজে তার গুরুত্ব বা অবদান অথবা রাষ্ট্রের জন্য তার অবদানের কথা বিবেচনায় নেয়া হয়নি। সাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে ডাকা হয়নি।

শোক দিবসের আলোচনায় প্রবাসীদের পক্ষ থেকে কেবলমাত্র লীগ পদবিধারীদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হয়। সভাপতি আছেন কিন্তু সাধারণ সম্পাদকের অস্তিত্ব নেই এমনও সংগঠনের নেতাও বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। আর এই কারণেই প্রবাসে সরকারি দলের অঙ্গসংগঠনের উপস্থিতি বা অস্তিত্ব দেখা দেয় বলে প্রবাসীরা মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ভাষায় ঢাকার গুলশান-বনানীতে কৃষক লীগের প্রয়োজন না থাকলেও জাপানের টোকিওতে প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে।

বঙ্গবন্ধুর উপাধির মধ্যে জাতির জনক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি থাকলেও তার শাহাদাতবার্ষিকী কেবলমাত্র লীগ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে তার বিদেহি আত্মার প্রতি কতটা সম্মান জানানো হয় তার উত্তর কারোই জানা নেই।

সাপ্তাহিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *