শখের বসে খামার করে কোটিপতি হলেন রশিদ

মোজাম্মেল হোসেন সজল: মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের মাইজগাঁও গ্রামে হকি ফেড়ারেশন নেতা আব্দুর রশিদ শিকদার প্রায় পাঁচ বছর আগে শখের বসে একটি গাভী গরু দিয়ে খামার শুরু করেন। এরপর খামারটি বড় করতে করতে এখন বাণিজ্যিকভাবে নিয়েছেন। একটি গরু থেকে এখন ছোট-বড় মিলিয়ে তার দেশি-বিদেশি গাভীর সংখ্যা ৩২৫ টির অধিক। যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা।

১৪০ শতাংশ জমির উপর গড়ে তুলেছেন নিউট্রি ফ্রেশ ডেইরি ফার্মটি। স্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলোকে মোটাতাজা করণ করছেন। ৩২৫টি গরুর মধ্যে বড় আকারের প্রায় ১৩৫টির মতো এবার কোরবানির হাটে বিক্রি করবেন।

আব্দুর রশিদ শিকদার এশিয়ান হকি ফেডারেশনের কার্যকরী পরিষদের পরিচালক, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও ঊষা ক্রীড়া চক্রের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া আব্দুর রশিদ শিকদার লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি তার নিজ গ্রাম মাইজগাঁওয়ে এখন বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলেছেন একটি ডেইরি ফার্ম। তার এই ফার্মের স্টাফ সংখ্যা ২৫ জন। তাদের মাসিক বেতন দেয়া হচ্ছে ১২ থেকে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। ডেইরি ফার্মে কর্মচারিদের কাজও ভাগ করে দেয়া হয়েছে। কোন গরুকেই বিষাক্ত কোন খাবার দেয়া হয়না। গমের ভুসি, ভুট্রা, চালের ঝাউ ভাত, আলু, বুটের ছোলা, ঘাসসহ নানারকম স্বাস্থ্য সম্মত খাবার দিয়ে গরুকে মোটাতাজাকরণ করা হয়।

প্রতিদিন ৫২টি গাভী গরু থেকে দুধ সরবরাহ হচ্ছে ৪শ’কেজির মতো। এই ফার্মের একটি গরুর ওজন ১৩-১৪ মণ। এবার কোরবানিতে বিক্রয়যোগ্য একটি গরুর মূল্য ২ লাখ টাকার ওপরে। এদিকে, এই ফার্মে নিজেদের খাওয়ার জন্য ৩৫-৪০টি ছাগল ও ভেড়াও লালন-পালন করা হচ্ছে।

ডেইরি ফার্মের কর্মচারিরা জানালেন, তারা নিজের চেয়ে গরুকে বেশি যত্ম করছেন। গরুর খাবারে কোন ভেজাল নেই।

ডেইরি ফার্ম মালিক আব্দুর রশিদ শিকদার পূর্বপশ্চিমকে বলেন, লৌহজংয়ে গরু পালা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। তার খামারটি চালু করার পর অনেকে উৎসাহবোধ করে পুনরায় গবাদিপশু পালা শুরু করেছেন। কিন্তু গরু থেকে যে দুধ সরবরাহ করা তার হয় ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এখানে মিল্কভিটা সংগ্রহের কোন ব্যবস্থা নেই। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য মানুষ বিষ খাওয়ায়। কিন্তু তার ডেইরি ফার্মে গরুকে কোন রকম ব্যাকটেরিয়া জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো হয় না।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরের ড্রেসার মো. কদম আলী জানালেন, এই ফার্মে গরুকে সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক খাবার দেয়া হচ্ছে। বিষজাতীয় বাইরের কোন খাবার দেয়া হয়না। ফ্যানের ব্যবস্থাসহ অত্যন্ত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার মধ্য দিয়ে এই ফার্ম পরিচালিত হচ্ছে। সময়ে সময়ে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

পূর্ব পশ্চিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *