মুন্সীগঞ্জের ৬৫ গ্রাম বন্যার পানির নিচে

কাজী সাবি্বর আহমেদ দীপু: মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার বন্যাকবলিত ৬৫টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এক সপ্তাহ ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যার পানিতে এসব গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় বসতবাড়িতে কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও বুকসমান পানি। এসব গ্রামের মানুষ বাড়তি বিপাকে পড়েছেন তাদের গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের মাচা উঁচু করেও রক্ষা হচ্ছে না।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন পীর জানান, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পদ্মাতীরের উত্তর ভূকৈলাস, দক্ষিণ ভূকৈলাস, পূর্ব বাঘেরচর, আশুলিরচর, বানিয়াল মহেশপুর এবং শিলই ইউনিয়নের কাইজ্জারচর ও বেহেরচর গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের পদ্মার চরের গ্রাম কান্দারবাড়ি, মিরতারা, সরিষাবন, বাহেরক গ্রামের কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও বুকসমান পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ হালদার। তার পাশেই কামারখাড়া ইউনিয়নের বড়াইল, মাইজগাঁও জুসিষার, চৌসার, বাগবাড়ী এবং হাসাইল-বানারী ইউনিয়নের বানারী, বিধুয়াইল, বাঘেরপাড়, পশ্চিম হাসাইল, মধ্য হাসাইল ও পূর্ব হাসাইল, গারুরগাঁও, পাচনখোলা, আটিগাঁও, বিদগাঁও, ধোপড়াবাবা, ধানকোড়াসহ ১৮টি গ্রামও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পদ্মার প্রবল স্রোতে হুমকির মুখে পড়েছে হাসাইল-গারুরগাঁও বাজারের কাঁচা সড়কটি। কান্দিপাড়া গ্রামের সোনিয়া আক্তার জানান, বন্যার পানিতে আটকা পড়ে অনেক কষ্টে আছেন তারা। কিন্তু এ পর্যন্ত তারা কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাননি। লৌহজং উপজেলার পদ্মার তীরের খড়িয়া, বাণীগাঁও, কোরহাটি, তেউটিয়া, ঝাউটিয়া, পাইকারা, সাইনহাটি, ব্রাহ্মণগাঁও, সিংহেরহাটি, বেজগাঁও চর, সুন্দিসার চর, গাঁওদিয়া, শামুরবাড়ী,

হারিদিয়া, রানাদিয়া, কলমা, ধাইদা, ডহুরীসহ ২৫টি গ্রাম বন্যার

পানিতে ভাসছে। বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ায় উপজেলার যশলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডহরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দু’দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

শ্রীনগর উপজেলার পদ্মাতীরের ভাগ্যকুল ও বাঘরা ইউপির মাগডাল, ভাগ্যকুল, বাঘরা, চারিপাড়া, কবুতরখোলা ও মান্দ্রা গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় এসব গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার এখন পানিবন্দি। পদ্মার পানিতে তলিয়ে গেছে এসব গ্রামের দুটি রাস্তা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার থেকে পদ্মার পানি ধীরগতিতে কমতে শুরু করলেও তীরবর্তী গ্রামগুলোতে এখনও কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমরসমান পানি। মুন্সীগঞ্জ শহর সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

সমকাল