গজারিয়া: আস্থার সংকটে রাজনীতি

মো: সাইফুল ইসলাম: কোন এক সময় মহিউদ্দিন পরিবারকে ঘিরে আবর্তিত হত মুন্সীগঞ্জের রাজনীতি। সময়ের পরিক্রমায় সেই ধারায় কিছুটা হলেও ছন্দপতন ঘটেছে। মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে হঠাৎ আভির্বাব হলেও শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন এড.মৃণাল কান্তি দাস ও এম ইদ্রিস আলী। তাদের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে আরো দুটি রাজনৈতিক বলয়। তাদের বলয়ের নেতাকর্মীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এছাড়া তরুণদের দুর্বলতার নাম মহিউদ্দিন আহমেদের জৈষ্ঠ পুত্র মুন্সীগঞ্জ সদরের পৌর মেয়র হাজী ফয়সাল বিপ্লব। তার বলয়ে তরুণ কর্মী সংখ্যাই বেশী।

মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে বরাবরই নানা কারণে আলোচিত নাম গজারিয়া উপজেলা। তাই নেতাদের সরব অবস্থান বেশী এই উপজেলায় । মৃণাল কান্তি দাস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর রেকর্ড সংখ্যক বার এসেছেন এই উপজেলায়। ধারণা করা হয় এটা অতীতের যেকোন সংসদ সদস্যের চেয়ে বহুগুন বেশী। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হঠাৎ আর্বিভাব হওয়া এম ইদ্রিস আলী নৌকা প্রতীক পাবার পর বিএনপির হেব্বী ওয়েট প্রার্থী এম সামসুল ইসলামের সাথে ভোট যুদ্ধে যখন অবতীর্ণ হোন তখন মুন্সীগঞ্জ সদরে তাদের ভোটের মাত্র পার্থক্য ছিল দেড় হাজার । তবে গজারিয়া বাসীর ভোটে প্রায় বিশ হাজার ভোটের ব্যবধানে পাশ করেন এম ইদ্রিস আলী। আর তাই গজারিয়া বাসীর অবদানের কথা অকপটে শিকারও করেন তিনি।

নানা কারণে সারা বছরই তপ্ত ভাব থাকে গজারিয়ার রাজনীতিতে। আলোচনা ,সমালোচনা কিংবা নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতাসহ নানা কারণে গজারিয়ার রাজনীতি শিরোনাম হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমের। আগামী সংসদ নির্বাচনের বাকী আরো প্রায় দেড় বছর এরই মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গজারিয়ার রাজনীতি। নৌকা প্রতীক পাবার লড়াইয়ে যখন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এ্ড.মৃণাল কান্তি দাস ও সাবেক সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলী ঠিক তখনই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দিয়ে আগুনে ঘি ঢালার কাজ করেছেন গজারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা। গজারিয়ার মৃণাল কান্তি দাসের সিপাহসালার তোতা যদি তার মুখোমুখি দাড়ায় তা হবে তার জন্য কঠিন সমস্যার কারণ। তোতার নির্বাচনের ঘোষণা সংশয়ে ফেলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের। কার উপর আস্তা রাখবেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অনেক নেতাকর্মী। আর কাকে পাশে আর কাকে পাবেন না সেই হিসেবও মেলাতে পারছেন না নেতারা। অনেকে আবার প্রতীক পাবার আগে কোন নেতার পক্ষে সক্রিয়ভাবে অবস্থান না দিয়ে নীরব থাকার কথা ভাবছেন।

গজারিয়ার রাজনীতিতে ফ্যাক্টর তোতার সাথে সুসম্পর্ক গজারিয়ার সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের। তবে মৃণাল কান্তি দাসের ভক্ত এমন চেয়ারম্যানও আছেন কয়েকজন। চেয়ারম্যানদের কাকে কে পাশে পাবেন এই প্রশ্নরে উত্তর খুঁজছেন অনেক নেতা। বাউশিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো: মিজানুর রহমান প্রধান আর ভবেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহিদ লিটনকে হয়তো দেখা যাবে মৃণাল কান্তি শিবিরে তবে বাকীদেরটা বলা যাচ্ছে না। সাবেক চেয়ারম্যানদেও মধ্যে শাহ্ জাহান খান ইতিমধ্যে মৃণাল শিবির ছেড়ে তরী ভিড়িয়েছেন ইদ্রিস আলী শিবিরে।তবে মনিরুল হক মিঠু, সফিউল্লাহ সফি, মোজ্জাম্মেল হক চৌধুরী খোকনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কিছুই।

মৃণাল কান্তি দাস যদি নৌকা প্রতীক পায় তবে কি তোতা ও ইদ্রিস আলীর কট্টরপন্থী সমর্থরা তার পক্ষে কাজ করবে? আর তোতা বা এম ইদ্রিস আলীর মধ্যে যদি একজন নৌকা প্রতীক পায় তবে কি মৃণাল সমর্থকরা তাকে কি বর্জন করবে?? এমন প্রশ্নের উত্তর যখন বাতাসে তখন মাঠের নেতা-কর্মীদের চোখ দলীয় প্রতীকের দিকে।

ক্রাইম ভিশন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *