লৌহজং সরকারি অফিসে দেড় মাস ইন্টারনেট নেই

মহাসড়কের চার লেন কাজে কেবল কাটা
ঢাকা-মাওয়া চার লেন কাজে কেবল কাটা পড়ায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার সরকারি অফিসগুলোতে দেড় মাস ধরে ইন্টারনেট সেবা নেই। সমস্যা নিরসনে কর্তৃপক্ষের কোনো প্রচেষ্টা নেই। এতে সরকরি কাজে নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিসের সকহারী উপপ্রকৌশলী মো. জয়েন আলী জানান, তাঁদের অফিসে উপজেলা সার্ভার স্টেশন থেকে নেট সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে অফিসের কাজে ঝামেলার সৃষ্টি হচ্ছে। তাঁরা ব্যক্তিগত মডেম ব্যবহার করে নেট খুলছেন। এতে সরকারি কাজে নিজস্ব অর্থ ব্যয় হচ্ছে। জরুরি মেইল এলেও ব্যক্তিগত নেট সব সময় চালু রাখা সম্ভব না হওয়ায় সরকারি কাজে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম জানান, তাঁর অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নেট নেই। এতে তাঁর অফিসের কাজে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। সময়মতো মন্ত্রণালয়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মেইল পাঠানো যাচ্ছে না।

ব্যক্তিগত মডেম ব্যবহার করে জরুরি মেইল পাঠাচ্ছেন। তবে মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি মেইল এলে তা যথাসময়ে হাতে পাচ্ছেন না। ফলে এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারুক সিরাজ জানান, উপজেলা সার্ভার স্টেশন থেকে প্রায় দেড়-দুই মাস ধরে নেট সার্ভিস পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের জরুরি কাজে বাইরের কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে মেইল করতে হচ্ছে। এতে অর্থ ও সময় উভয়ই নষ্ট হচ্ছে। উপজেলার ১৭টি অফিসের দু-একটি বাদে সব কটি অফিসের চিত্রই এখন এ রকম।

ইউএনওর সিএ আবুল খায়ের অভিযোগ করেন, তাঁর অফিসেও নেট সার্ভিস নেই দীর্ঘদিন ধরে। জরুরি প্রয়োজনে ডিসি অফিসসহ অন্যান্য অফিসে মেইল পাটানো যাচ্ছে না। সার্ভার স্টেশনের প্রগ্রামার তোফিক বীন বারীকে এ ব্যাপারে বারবার বলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। উপজেলা সার্ভার স্টেশনের প্রগ্রামার তোফিক বীন বারীর মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, ‘ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের চার লেনের কাজ চালু হওয়ার পর থেকে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের নিচ দিয়ে নেট লাইনের কেবল ছিল। কাজ শুরুর পর এটি বেশ কয়েক স্থানে কাটা পড়েছে। এটি দেশের একটি অগ্র্রাধিকার প্রকল্প। তাই এটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নেট পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ’

কালের কন্ঠ