এক্সক্লুসিভ: চিকুনগুনিয়ার তথ্য নিতে স্বাস্থ্য বাতায়নে দিনে হাজারো ফোন

‘স্বাস্থ্য বাতায়ন’-এ গত ১৩ই জুলাই থেকে ৩রা আগস্ট পর্যন্ত চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে জানতে ফোনকল এসেছে ৫২ হাজার ৫২৭টি। এর মধ্যে চিকুনগুনিয়ার সম্ভাব্য রোগীদের কল এসেছে প্রায় ৬ হাজার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগী ঢাকায় কয়েক লাখ হবে। তবে সঠিক পরিসংখ্যান কেউ দিতে পারছেন না। চিকুনগুনিয়া নিয়ে আতঙ্ক ঢাকা ছেড়ে গ্রামেও বিরাজ করছে। রাজধানীতে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের অন্যান্য জেলায়ও চিকুনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবর দিচ্ছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এই ব্যাপারে মানবজমিনকে বলেন, ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল এবং দেশের অন্যান্য হাসপাতাল থেকে আসা তথ্য অনুযায়ী সম্ভাব্য রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৬০০ জন। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রেফাড হয়ে আসা ১৮৫০ জন চিকুনগুনিয়া রোগীকে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এর থেকে ৯ই এপ্রিল থেকে ৭ই আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ৯২২ জন রোগীর চিকুনগুনিয়া নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব মতে, ১০ দিনে নিশ্চিত রোগী বেড়েছে ৯২। কিন্তু পরিচালক দাবি করছেন, চিকুনগুনিয়া রোগী বাড়ছে না বরং বাড়ার হার কমেছে। তিনি বলেন, বৃষ্টি যতদিন থাকবে তত দিন এই জ্বর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ কমে আসবে বলে তিনি আশা করেন।

ঢাকার বাইরে ১৭টি জেলা থেকে ইতিমধ্যে চিকুনগুনিয়া জ্বর হওয়ার তথ্য দিয়েছে হাসপাতালগুলো। এতে মোট ১৮১ জনের চিকুনগুনিয়া জ্বর হওয়ার রোগীর রক্তের নমুনা এসেছে আইইডিসিআর কাছে। এই সংখ্যা ২৬শে জুলাই ছিল ১৩১ জন। এখন পর্যন্ত ঢাকার বাইরে ৪৮ জনের চিকুনগুনিয়া নিশ্চিত হয়েছে বলে আইইডিসিআর জানিয়েছে। জেলাগুলোর মধ্যে ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে চিকুনগুনিয়ার খবর আসছে বেশি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশনের বাইরে নরসিংদী জেলার ১৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩ জনের শরীরে চিকুনগুনিয়া নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এরপরে রয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলা। এ জেলায় ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১জনের চিকুনগুনিয়া নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ১২ই মে হতে ৭ই আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া সম্ভাব্য চিকুনগুনিয়া ও চিকুনগুনিয়া পরবর্তী আর্থ্রালজিয়া রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৬০৮ জন। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের অন্যতম মূল সমস্যা গিরায় ব্যথা বা ফুলে যাওয়া। এর ফলে রোগীরা অত্যন্ত চিন্তিত থাকেন এবং এর সমাধানের জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। এই বিভ্রান্তি দূর করাসহ এর সঠিক চিকিৎসার লক্ষ্যে গত ৫ই জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সারাদেশের সকল জেলা ও উপজেলার সরকারি হাসপাতালে এবং সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘হেল্প ডেস্ক’ ও ‘আর্থ্রালজিয়া ক্লিনিক’ খোলা হয়। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের এসব জায়গায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্বারা চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন।

মানবজমিন