শ্রীনগরে স্কুল ছাত্র-কলেজ ছাত্রীর রহস্য জনক ও যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু

ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ ৩ টি দাফন
আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে একই দিনে ৩য় শ্রেনীর এক ছাত্র ও কলেজ ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু সহ একই দিনে অপর এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ ৩টি দাফনের অনুমুতি দেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এদের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণীর স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় নানা রকম কথা ভেসে বেরাচ্ছে। পুলিশ তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রের লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসলেও পরে মুচলেকা নিয়ে দাফনের জন্য তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে। অপরদিকে পুলিশ কলেজ ছাত্রীর লাশ ঘটনাস্থলে রেখে আসে। এছাড়া একই দিনে ২৪ বছররের এক যুবকের পানিতে ডুবে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। পুলিশ ৩ টি লাশের মধ্যে একটিরও ময়না তদন্ত না করে দাফনের অনুমুতি দেয়।

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার সকাল ১০ টায় উপজেলার ধাইসার গ্রামের সাইদ মিয়ার বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শ্রীনগর মলেড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র নিরব (৯) এর লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। এক বছর আগে উপজেলার সেলামতি গ্রামের ওমান প্রবাসী আ ঃ রবের স্ত্রী দুই সন্তান সহ ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। নিরবের লাশটি জানালার গ্রিলের সাথে মাফলার পেচানো ও পা মেঝের সাথে লাগানো অবস্থায় ছিল বলে প্রতিবেশীরা জানায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আ ঃ সালাম জানান, নিরবকে মারা যাওয়ার কিছুক্ষন আগে বাজার থেকে ব্রয়লার মুরগী নিয়ে যেতে দেখেছি। ফ্ল্যাটে এসময় বহিরাগত কেউ ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিৎ। তবে নিরবের মায়ের দাবী তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন হঠাৎ শব্দ শনে উঠে দেখেন গ্রীলের সাথে নিরবের দেহ ঝুলছে। ওই ফ্ল্যাটের আশ-পাশের লোকজন জানান বিষয়টি রহস্য জনক।

নীরবের দাদা আঃ মালেক শেখ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলে বিদেশে থাকে,নিজ বাড়ি ঘড় ফেলে রেখে দুইটি শিশু পুত্রনিয়ে আমার পুত্রবধু কি কারনে ভাড়া বাড়ীতে এসে উঠেছেন তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে নানা রকম প্রশ্ন রয়েছে। এই শিশু চাচ্চার আতœহত্যার প্রশ্নই উঠেনা। এ ব্যাপারে শ্রীনগর থানার ওসি এস এম আলমগীর হোসেন প্রথমে শিশুটির মৃত্যুর কারন খতিয়ে দেখা হবে বলে জানালেও গভীর রাতে আতœীয় স্বজনদের কাছে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশটি হস্তান্তর করেন।

একই দিন বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলার আলমপুর গ্রামের সালাম মৃধার মেয়ে নিপা আক্তার (১৮) এর ঝুলন্ত লাশ পরিবারের লোকজন নামিয়ে আনে। পরিবারের দাবী নিপা অজ্ঞাত কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও লাশটি দাফনের জন্য রেখে আসে। নিপা গোপালপুর কলেপজের দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াশোনা করতো।

অপরদিকে বিকাল সাড়ে ৫ টার সময় উপজেলার বিবন্দী গ্রামের রিয়াজদ্দিন শিকদারের ছেলে মানিক শিকদার (২৪) এর লাশ পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবী মানিক মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল।

তিনটি লাশের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ও কলেজ ছাত্রীর লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমুতি দেওয়ায় বিভিন্ন কথা চাউর হচ্ছে বলে এলাকা বাসী জানান।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আলমগীর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাওয়াতের অনুষ্ঠানে আছেন বলে ফোন রেখে দেন।