মুন্সীগঞ্জ-১ আস : কে হচ্ছেন আওয়ামীলীগের কান্ডারী?

রাণী হক: একাদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানাবিধ জল্পনা কল্পনা। ঐতিহাসিক বিক্রমপুরের প্রবেশদ্বার মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে কে হচ্ছেন আওয়ামীলীগের কান্ডারী? এটি জাতীয় সংসদের ১৭১ নং আসন।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনটি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর-সিরাজদিখান উপজেলা নিয়ে গঠিত। শ্রীনগর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৮ হাজার । এরমধ্যে পুরুষ ও মহিলা ভোটার প্রায় সমান । এ উপজেলায় প্রার্থী রয়েছেন ০৪ জন এবং সিরাজদিখান উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১৪ হাজার । এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৯ হাজার ও মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৫ হাজার । এ উপজেলায় প্রার্থী রয়েছেন ০১ জন ।

যতদুর জানা যায়, আগামী নির্বাচনে দলের যোগ্য, ত্যাগী ও জনগণ বান্ধব ব্যক্তিকেই চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দিবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ভাল ইমেজের সাহসী, ত্যাগী নেতাদের দিকে দৃষ্টি থাকবে দলটির হাইকমান্ডের। ইতোমধ্যে দলটির হাইকমান্ডের নিদের্শনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা আসন ভিত্তিক জরিপ পরিচালনা করছে। তারই ধারাবাহিকততায় সারা দেশের ন্যায় মুন্সীগঞ্জ-১ আসনেও পিছিয়ে নেই মনোনয়ন প্রত্যাশীরা । তেমন কোন বদনাম না থাকলেও বর্তমান সাংসদ সুকুমার রঞ্জন ঘোষের অসুস্থতার সুবাদে যেন মনোবল দৃঢ় হচ্ছে অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ।

সুকুমার রঞ্জন ঘোষ পরপর দুই নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হন। গত নির্বাচনে বিএনপি থেকে কোন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় তিনি শতভাগ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তবে বিএনপি ও বিকল্পধারায়ও রয়েছে হেভিওয়েট প্রার্থী ।মনোনয়ন দাতাদের এদিকটাও বিবেচনায় আনতে হবে ।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সাংসদ সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ,জেলা আওয়ামীলগের সহ-সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, সাবেক কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু ও সাবেক কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ-সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবীর ।

সুকুমার রঞ্জন ঘোষ পরপর ২ বারের সংসদ সদস্য । তিনি ১৯৮৯ইংসাল থেকে শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি । তিনি একজন সৎ ও উন্নয়নের রুপকার হিসেবে এলাকায় পরিচিত । সিরাজদিখান-শ্রীনগরে মাটি ও মানুষের নিকট তুমুল জনপ্রিয় এ নেতা। অনেক সাংসদদের নামে নানা অভিযোগ থাকলেও তার নামে তেমন কোন অভিযোগ নেই ।শারিরীক অসুস্থতাই তার প্রধান প্রতিপক্ষ । তিনি ব্যক্তি জীবনে সৎ, মেধাবী, ধনকুবের ও ক্লিন ইমেজের অধিকারী ।মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনসাধারনের সাথে ভাল যোগাযোগ রয়েছে ।

এদিকে মহিউদ্দিন আহমেদ । তিনি তিনি ১৯৯৪ইংসাল থেকে সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি । পরপর ২বারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান । তিনি সিরাজদিখানের মালখানগর ইউনিয়নের ৫বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন । তাহার স্ত্রীও স্থানীয় ইউপির পরপর ২বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান । তিনি একজন সাদামাটা মানুষ । বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ দল থেকে মনোনয়ন পেতে নিজের মাঠ গোছাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। সিরাজদিখান মাটি ও মানুষের নিকট তুমুল জনপ্রিয় এ নেতা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত নেতা হিসেবে ইতোমধ্যে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিত্ব মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি একজন সেরা সংগঠকও ।এছাড়াও আওয়ামীলীগের হাইকমান্ডের ভেতরেও তিনি পরিচিত মুখ। তিনি সিরাজদিখানের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের একত্রিত করার আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছেন ।তৃনমূলের নেতাকর্মী ও সাধারন জনতা খুব সহজেই তাদের প্রিয় মহিউদ্দিন ভাইয়ের নিকট পৌঁছাতে পারেন।

আওয়ামীলীগের অনেক তৃনমূল নেতা কর্মীরা আশা করেন মহিউদ্দিন আহমেদ নৌকার প্রার্থী হিসেবে নমিনেশন দিলে বিজয় অনেকটা নিশ্চিত।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আশা প্রকাশ করেছেন মোঃনুরুল আলম চৌধুরী । তিনি মুন্সীগজ্ঞ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দেশবরেণ্য ক্রীড়া সংগঠক। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সভাপতি। ” রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বানিজ্য মন্ত্রনালয় ” কর্তৃক তিনি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী। তাকে সিআইপি পদবী দেওয়া হয়েছে।

তিনি ব্যক্তি জীবনে সৎ, মেধাবী, ধনকুবের ও ক্লিন ইমেজের অধিকারী ।তবে তার মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের তৃণমূলের নেতাকর্মী ও জনসাধারনের সাথে কম যোগাযোগ রয়েছে।

মনোনয়নের প্রাপ্তির জন্য গনসংযোগ করছেন অধ্যাপক ডাঃ বদিউজ্জামান ভূইয়া (ডাবলু) । তিনি পেশায় একজন দেশ বরেণ্য চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক ও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন । তার স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখা বইয়ের সংখা প্রায় শতাধিক। তিনি এলাকাবাসীর কল্যানে শ্রীনগরে ” বিক্রমপুর ভূইয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ” নামের একটি প্রতিষ্ঠান করেন। তার পিতা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

তিনিও ব্যক্তি জীবনে সৎ, মেধাবী ও ক্লিন ইমেজের অধিকারী ।তবে তার মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের তৃণমূলের নেতাকর্মী ও জনসাধারনের সাথে কম যোগাযোগ রয়েছে ।

মুন্সীগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনে শুরু থেকেই নির্বাচনী গনসংযোগ করে চলেছেন মোঃ গোলাম সারোয়ার কবির । তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক, সাবেক সহ-সভাপতি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি ও সাবেক সাধারন সম্পাদক ঢাকা মহানগর (দক্ষিন)ছাত্রলীগ। তিনি শ্রীনগরে জম্মসূত্রে নাগরিক নয়। তিনি পড়ালেখা শেষ করে এখানে বিয়ে করেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হোন। পরে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।

শ্রীনগর ও সিরাজদিখান ছাত্রলীগ কমিটিতে তার প্রভাব রয়েছে।তিনি এ আসনের তরুন প্রজন্মের একাংশেরও নেতৃত্ব দিচ্ছেন । বর্তমান সাংসদের অসুস্থতার সুবাদে তিনি কিছুটা এগিয়ে চলেছেন । তবে এ আসনের অনেকে মনে করেন তিনি সাংসদ হলে তরুন প্রজন্মের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা চলে আসবে । এ ব্যাপারে অনেকে শঙ্কিতও রয়েছে ।তিনি একজন কর্মীবান্ধব নেতা । ইদানিং এ আসনে তিনি যথেষ্ঠ জনসংযোগ করছেন ।

সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায় এমন একজন নেতাকে জনগন চায় যে নেতার জনপ্রিয়তা থাকবে, জনগণ ভালবাসবে, সৎ ও নিষ্ঠাবান হবে, রাজনৈতিক মামলা মোকদ্দমায় কম জড়াবে অর্থাৎ বিরোধীদলকে হয়রানি করবে না, উন্নয়নের রুপকার হবে. সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে প্রাধান্য দিবে না । সে দিনটির অপেক্ষায় বসে রয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের আপামোর জনতা, যে দিনটিতে একজন সৎ ও যোগ্য নেতা দলীয় মনোনয়ন পাবেন । জনগণ আশাবাদী বঙ্গবন্ধু কন্যা কোন মামলাবাজ সন্ত্রাসীকে এ আসন থেকে মনোনয়ন দিবেন না ।

ক্রাইম ভিশন