বাসায় ঢুকে সাংবাদিকের ওপর হামলা, নারী কারাগারে

মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হত্যা প্রচেষ্টার ঘটনায় বাড়ির মালিকের স্ত্রী রোকসানা বেগম (৩৫) নামের এক নারীকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। রোকসানা বেগম মানিকপুর এলাকার দশতালা বাড়ির মালিক কাতার প্রবাসী আবুল বাসার ওরফে কাতার বাদশার স্ত্রী।

এর আগে সোমবার বিকেলে পুলিশ তাকে আদালতে পাঠালে আসামি পক্ষে জামিন চান অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর শাহীন মিঝি। এতে আদালত মঙ্গলবার জামিন শুনানীর জন্য দিন ধার্য্য রাখলে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়শা আক্তার সুমি জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে জেলা হাজতে পাঠান।

জামিন শুনানীকালে বাদী পক্ষে জামিনে বাধা দেন, অ্যাডভোকেট রেক্সোনা আক্তার লাকী, অ্যাডভোকেট শাহীন মোহাম্মদ আমানউল্লাহ, অ্যাডভোকেট লাবলু মোল্লা, অ্যাডভোকেট সেতু ইসলাম, অ্যাডভোকেট সুজন হায়দার জনি, অ্যাডভোকেট বাদল কৃঞ্চ পোদ্দার, অ্য্যাডভোকেট জাহাঙ্গির আলম প্রমুখ।

রোববার রাত সাড়ে ৯ টার সময় শহরের মানিকপুর গ্রামে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক জনকন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জলের বাসভবনে হামলা চালায় ১৫-১৬ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। সে সময় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক উজ্জলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তার নিজস্ব বাসাবাড়িতে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানের সামনেই তাকে হত্যার উদ্দেশে হামলা চালানো হয়। তার শিশু সন্তানের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ সময় তার স্ত্রী বাংলাদেশ টেলিভিশনের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ফারহানা মির্জা বন্যাও আহত হন। মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলার করার পর হত্যা প্রচেষ্টার প্রধান আসামি রোকসানাকে পুলিশ আটক করে। এই হামলার ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ জেলাসহ দেশের সর্বত্র নিন্দার ঝড় উঠেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে, শ্রীনগর প্রেসক্লাবে, লৌহজং প্রেসক্লাবে ও টঙ্গীবাড়ী প্রেসক্লাব সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে। মঙ্গলবার সকালেও মানববন্ধন করে সিরাজদিখান প্রেসক্লাব। জেলার সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনীতিবিদ, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেয়। মানববন্ধনে তারা সাংবাদিক উজ্জলের ওপর এই ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং হত্যা প্রচেষ্টার হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এ ঘটনায় সোমবার মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় ৯ জনকে এজাহারভুক্ত ও আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়।

এদিকে, সাংবাদিক উজ্জ্বলের খোজ খবর নিতে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ছুটে আসেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের এমপি, সাবেক হুইপ অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমীন এমিলি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ হারুন-অর রশীদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুস্তাফিজুর রহমান, মুন্সীগঞ্জ পৌর সভার মেয়র হাজী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।

পূর্ব পশ্চিম