ল্যাংড়া আমির: টার্গেট করে চিরকুটে হুমকি দিত

পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ থেকে বেঁচে ফিরে, আদালতের হাজতখানা থেকে পালিয়ে দুর্ধর্ষ সব অপরাধের রেকর্ড গড়েছিলেন সন্ত্রাসী মোক্তার হোসেন ওরফে ল্যাংড়া আমির। টার্গেট ব্যক্তির হাতে চিরকুট ধরিয়ে হুমকি দেওয়া আর কথায় কথায় গুলি করা এমনই ক্ষ্যাপাটে স্বভাবের ছিলেন এ আমির।

টার্গেটকে পাঠানো তার চিরকুটগুলোতে লেখা থাকতো ‘ওই তারিখের মধ্যে এই জায়গায় টাকাটা পৌঁছে দিবি, আজ তোকে জীবন ভিক্ষা দিলাম, মরার জন্য প্রস্তুত থাকিস, টাকাটা পাঠিয়ে দে, থানা পুলিশ করলে মরবি’ ইত্যাদি।

কেরানীগঞ্জের মীরেরবাগ এলাকায় সোমবার রাত ২টার দিকে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ভয়ঙ্কর এ শীর্ষ সন্ত্রাসী। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সন্ত্রাসী আমির নিহত হয়েছে। তার লাশ উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

নিহত সন্ত্রাসী আমিরের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম এলাকায়। জমি ব্যবসার সূত্র ধরে কেরানীগঞ্জের পশ্চিমপাড়া এলাকায় থিতু হন তিনি। পরে জড়িয়ে পড়েন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে। পায়ের সমস্যায় ঠিকমতো হাঁটতে না পারায় তাকে ল্যাংড়া আমির নামেই ডাকতেন স্থানীয়রা। আগে থেকেই তার নামে হত্যা মামলা থাকলেও মূলত আলোচনায় আসেন ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর। সেদিন বাসার সামনে থেকে মা, বোন আর গাড়িচালককে গুলি করে শিশু পরাগ মণ্ডলকে অপহরণ করেন আমির।

পরাগ অপহরণের ১৪ দিনের মাথায় ২৩ নভেম্বর অপহরণ মামলার প্রধান আসামি মোক্তার হোসেন ওরফে ল্যাংড়া আমির টঙ্গীতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে খবর বের হয়। পরে জানা যায়, মাথায় গুলিবিদ্ধ হলেও বেঁচে আছেন আমির। সুস্থ হয়ে কারাগারে অবস্থানের একপর্যায়ে ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট ঢাকার আদালতের হাজতখানা থেকে পুলিশকে ধোকা দিয়ে পালিয়ে যান।

এরপর গত কয়েক মাসে তার রহস্যজনক গতিবিধি ও একাধিক ব্যবসায়ীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া ডজনখানেক ব্যবসায়ীর ঠিকানায় চিরকুট পাঠিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। পুলিশকে মারারও হুমকি দেন তিনি।

গত ২২ মার্চ চিকিৎসক দম্পতি আবু নোমান ও শাহানা নোমানের রিকশা থামিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে চিরকুট দেন ল্যাংড়া আমির। চিরকুট দেওয়ার সময় গুলি ছুড়ে আহত করেন তাদের বহনকারী রিকশাচালককে। চলে যাওয়ার সময় বলেন, ২০ লাখ টাকা না দিলে পরের গুলিটা তাদের বুকে করা হবে। এরপর আতঙ্কে কেরানীগঞ্জ ছাড়েন ওই দম্পতি।

গত ২২ মে দিনদুপুরে জিয়ানগর এলাকায় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের রিকশা থামিয়ে একই কায়দায় তার পায়ে গুলি করেন আমির। সর্বশেষ গত মাসে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় ব্যবসায়ী শাহ আলমের বুকে গুলি চালান আমির।

পরিবর্তন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *