হতাশ কৃষক পাটের দাম নিয়ে

মোজাম্মেল হোসেন সজল: দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল পাটচাষ মুন্সীগঞ্জে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই পাটের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ এখানকার কৃষকরা। সরকারের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় মুন্সীগঞ্জের কৃষকেরা পাটের আবাদ বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তারা আশার আলো দেখছেন না। কৃষকের উৎপাদন খরচই উঠে আসছে না। সরকারিভাবে পাট ক্রয়ের জন্য দাবি করেছেন, মুন্সীগঞ্জের কৃষকেরা। গত বছরের চেয়ে এ বছর মুন্সীগঞ্জে ৩২৬ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে।

ফালগুন মাসে মুন্সীগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল আলু জমি থেকে উত্তোলনের পর চৈত্র মাসে একই জমিতে পাটের বীজ রোপণ করেন। এরপর পাটের জমিতে সার ছিটিয়ে পরিচর্যা করা হয়। গাছ বেড়ে উঠার পর আষাঢ় মাসে পাট কেটে তা পানিতে ২১ দিন জাগ দিয়ে রাখা হয়। পাট পচার পর পাটখড়ি থেকে পাটের আশ সরানো হয়। ৬০০ টাকা কামলা খরচসহ মণপ্রতি তাদের এবার খরচ পড়েছে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা। কিন্তু পাট মৌসুমের শুরুতেই মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায়। গত বছর মৌসুমের শুরুতে পাটের বাজার মূল্য মণপ্রতি ছিল ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা। পরে তা নেমে বিক্রি হয়েছিল ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকায়।

এদিকে, মুন্সীগঞ্জের গ্রামীণ জনপদের কোথাও পাট কেটে জাগ দেয়া হচ্ছে, কোথাও পাটখড়ি থেকে আঁশ ছড়ায়ে শুকানোর কাজ চলছে। আবার কেউ কেউ বিক্রি করছেন স্থানীয় বাজারে নিয়ে। পাইকাররা গ্রামে গ্রামে গিয়েও পাট ক্রয় করছেন।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, মৌসুমের শুরুতেই পাটের বাজার মূল্য নেই। আর কয়দিন পর বাজার আরও পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিশ্রমই বৃথা যাচ্ছে। একমণ পাটের খরচ পড়েছে ১০০০ টাকার উপরে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মুন্সীগঞ্জে দেশি ও তোষা দুই ধরনের পাট উৎপাদন হয়ে থাকে। এরমধ্যে তোষা জাতীয় পাটের দাম বেশি। এবার জেলায় ৪ হাজার ২৯৮ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছর হয়েছিল ৩ হাজার ৯৭২ হেক্টর জমিতে। সিরাজদিখান উপজেলা সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে। সিরাজদিখান উপজেলায় ২ হাজার ২৭০ হেক্টর, টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় ৭৯০ হেক্টর, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫৬৭ হেক্টর, লৌহজং উপজেলায় ৩৩০ হেক্টর, গজারিয়া উপজেলায় ২০০ হেক্টর ও শ্রীনগর উপজেলায় ১৪০ হেক্টর জমিতে এবার পাটচাষ হয়েছে। দেশি পাট ১৮৪৪ হেক্টর ও তোষা পাট ২৪৫৪ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৪০০ হেক্টর জমির পাট উত্তোলন করা হয়েছে।

অপর দিকে, গত বছর জেলায় ২৮২ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছিল। এই বছর তা বেড়ে ৩০৮ হেক্টর জমিতে করলার চাষ হয়েছে। এরমধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৯৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর জানান, এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। ভালো মানের পাট মণপ্রতি ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মানবজমিন