রিকাবী বাজারে পরাজিত দলের হামলায় পাঁচজন আহত

মুন্সীগঞ্জে ফুটবল খেলায় পরাজিত দলের হামলায় বিজয়ী দলের পাঁচজন খেলোয়াড় আহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ৪৬তম জাতীয় স্কুল ও মাদরাসা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সদর উপজেলার ছেলেদের দ্বিতীয় পর্বের ফুটবল খেলায় রিকাবী বাজার গ্রীন ওয়েল ফেয়ার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। সদর উপজেলার চরকেওয়ারের এম এ খালেক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও মাঠের পাশের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে এ খেলা হয়।

আহতরা হলো স্ট্রাইকার রাহাতুল ইসলাম (১৫), গোলরক্ষক আমিরুল ইসলাম (১৪), ডিফেন্সের খেলোয়াড় খালেদ হাসান (১৫) ও সাজ্জাদ হোসেন (১৪) এবং স্ট্রাইকার আজিজুল ইসলাম। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রথমার্ধে এম এ খালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের তারিকুল ইসলাম গোল দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এর পরই বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চ বিদ্যালয় দলের খেলোয়াড়রা মারমুখী হয়ে ওঠে। মাঠের বাইরে থেকে তাদের সমর্থকরা ইট-পাটকেল ছুড়ে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে। দ্বিতীয়ার্ধে বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চ বিদ্যালয় গোল পরিশোধ করে খেলায় সমতা আনে। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে খেলা ড্র হয়। পরে টাইব্রেকারে হুমকি-ধমকি ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ সত্ত্বেও ৩-২ গোলে জয়ী হয়ে এম এ খালেক উচ্চ বিদ্যালয় সেমি ফাইনালে ওঠে।

এদিকে পথে পরাজিত দল (বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ও কিছু খেলোয়াড়) হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে, এমন খবরে রওনা হতে দেরি করে বিজয়ী দল। পরে স্বাগতিক বিদ্যালয় জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জালাল উদ্দিন নিজ উদ্যোগে বিজয়ী দলকে গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য বের হলে হামলা হয়। রামদা, রড, লাঠি, হাতুড়ি ও ছোরা নিয়ে ৪০-৫০ হামলা চালালে পাঁচজন আহত হয়। পরে বিজয়ী দল আশপাশে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে হাতিমারা পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিজয়ী দলকে উদ্ধার করে গন্তব্যে পৌঁছে দেন। তবে হামলাকারীরা বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের গাড়িতে রাখা ব্যবহৃত জামা-কাপড়, মোবাইল ফোনসেট ও কিছু টাকা নিয়ে যায়।

এর আগে বিজয়ী দলকে জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে পরাজিতরা এক ঘণ্টার মতো এক রকম জিম্মি করে রাখে। বিজয়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ফোনে পরাজিত বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করে সাহায্য চায়। ফোন করা হয় ফুটবল কমিটির আহ্বায়ক মুসীগঞ্জ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন দেওয়ানকেও।

বিষয়টি নিয়ে এম এ খালেক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল হক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পত্র দিয়েছেন। এর অনুলিপি দেওয়া হয়েছে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে।

ইউএনও সুরাইয়া জাহান জানান, এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইসমাইল বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ’

কালের কন্ঠ