লৌহজংয়ে দুই পক্ষের হাঙ্গামায় আহত ১০

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে গতকাল রবিবার খাল ভরাটকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাওদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের সরকারি খালসংলগ্ন একখণ্ড জমি কেনেন স্থানীয় ইসরাফিল খান। তিনি ইউপি মেম্বার তোবারক ঢালীকে জায়গাটি মাটি দিয়ে ভরে দেওয়ার দায়িত্ব দেন। তোবারক ঢালী ওই জায়গার পাশাপাশি পাশের খালটিও ভরাট শুরু করেন। এলাকাবাসী বিষয়টি লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি খাল ভরাট করতে নিষেধ করেন। কিছুদিন বন্ধ থাকলেও কয়েক দিন ধরে আবার খাল ভরাটের কাজ শুরু করা হয়।

ওই খালের পাড়ে বসবাসকারী ৮-১০টি পরিবারের লোকজন গতকাল রবিবার দুপুরে ওই কাজে বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে কমপক্ষে ১০ ব্যক্তি আহত হয়। গুরুতর আহত তিনজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে এখন এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি মেম্বার মো. সিরাজ বেপারী জানান, সরকারি খালটি এ এলাকার ৮-১০টি পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাই দুপুরের দিকে লোকজন নিয়ে আমরা বাধা দিতে গেলে বর্তমান মেম্বার তোবারক ঢালী ও ইসরাফিলের লোকজন আমাদের ওপর আক্রমণ করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ ব্যক্তি আহত হয়েছে।

ইসরাফিলের ব্যবহূত মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

লৌহজং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে সপ্তাহখানেক আগে আমি সেখানে গিয়ে খাল ভরাট করতে নিষেধ করি। শনিবার খবর পাই, সেখানে আবার খাল ভরাটের চেষ্টা চলছে। রবিবার সকালে অফিসে এসেই নায়েব, সার্ভেয়ারসহ প্রয়োজনীয় লোকজন পাঠাই। তাঁরা গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এরই মধ্যে স্থানীয় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সেখানে পুলিশ রয়েছে। ’

লৌহজং থানার ওসি মো. আনিচুর রহমান জানিয়েছেন, ‘খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় কোনো মামলা হয়নি। ’

কালের কন্ঠ