ভাঙন আতঙ্কে স্থানীয়রা: তিনদিনে নদীগর্ভে পদ্মা পাড়ের ১১০ ঘর

পদ্মার তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের কারণে গত তিনদিনে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও টংগীবাড়ি উপজেলার নদী তীরবর্তী ১১০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন আতঙ্কে শতাধিক বাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিপদসীমার নিচে নদীর পানি অবস্থান করলেও পানি বেড়ে যাওয়া দেখা দিয়েছে এই আতঙ্ক। নদীর পাড়ের স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ ও অন্যান্য স্থাপনা ভাঙ্গনের আশঙ্কায় রয়েছে। সোমবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকে নদী তীরবর্তী বাড়িঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে স্থানীয়রা।

টংগীবাড়ি উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়নের বড়াইল, চৌসার, বাগবাড়ি, জুসিষার গ্রামের ৬০ টি বাড়ি বিলিন হয়ে গেছে। এর আগে বড়াইল গ্রামের মসজিদটি শুক্রবার সন্ধ্যায় বিলিন হয়ে গেছে নদীতে। ৪ টি গ্রামের মানুষ ভাঙ্গন আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে বাড়িঘর সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ৭ দিন ধরে নদীর পানি বেড়ে গিয়ে গ্রামগুলোতে পানি প্রবেশ করেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছে এসব গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

চৌষার গ্রামের হাসান হোসেন বলেন, ‘নিজেদের ৪টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন আতংকে নিরাপদ স্থানে এসেছি। বড়াইল গ্রামে ৭ শতাধিক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে গেছে। বেশ কিছুদিন ধরেই নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। গ্রামে নদীর পানি প্রবেশ করে ধান-ক্ষেতসহ ফসলের জমিতে পানি ঢুকে গেছে। নিন্মাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় বিপাকে পড়েছে গ্রামের মানুষ। সকাল থেকে পদ্মার স্রোত কম থাকলেও পানি বাড়েনি।’

টংগিবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল হক বলেন, ‘কামারখাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থেকে ৬০ জনের একটি তালিকা পেয়েছি। এসব এলাকায় ত্রাণ এবং সাহায্যের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।’

সোমবার লৌহজংয়ের পদ্মা তীরবর্তী খড়িয়া গ্রামের ২০টি ঘর-বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। সাড়ে ৩ হাজার মানুষ এই গ্রামে বসবাস করে। নদী তীরবর্তী গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গাওদিয়া গ্রামের আসাদ হোসেন বলেন, ‘পানি বেড়ে গিয়ে নিচু এলাকায় ঢুকে পড়েছে। এছাড়া ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করেছে। ভাঙ্গন আতংক নিয়ে এই গ্রামের মানুষ অসহায়ভাবে জীবন যাপন করছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গ্রামের মানুষ আতংকে জীবন যাপন করছে।’

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, আগামীকাল থেকে ত্রানের টাকা এবং চাল বিতরন করা হবে। এছাড়া গাওদিয়া এলাকার ভাঙ্গনে জিও ব্যাগ এবং ব্লক পদ্মা নদীতে ফালানো হবে। জেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বেড়ে যায়। বিপদ সীমার নিচে পানি থাকলেও পদ্মা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে গেছে।

জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, দুই উপজেলায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে বলে জানা গেছে। জরুরী ভিত্তিতে ৭৫ মেট্রিক টন চাল এবং দেড় লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠির দেওয়া হয়েছে ভাঙ্গন মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

দ্য রিপোর্ট