জুলুমের উপর জুলুম!

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে আদালতের রায় উপেক্ষা করে দিনে সন্ত্রাসী হামলা ও রাতে ভাংচুর,লুটপাট ও ফিল্মিকায়দায় বাড়ী দখলের ঘটনার পর উল্টো হামলাকারীদের মামলায় ফাঁসল অসহায় একটি দরিদ্র পরিবার। যারা হামলার শিকার হল তাদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে উল্টো প্রতিপক্ষের মামলার আসামী হয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে হাতকড়া পরতে হল ওই পরিবারের এক সদস্যকে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসীর ভাষ্য মতে একে অভিহিত করা হয়েছে জুলুমের উপর জুলুম বলে।

স্থানীয়রা জানায়, গত শনিবার বিকালে ও রাতে উপজেলার বাড়ৈখালি গ্রামের ঋষিপাড়া পাগল দাস ঋষির বাড়ীতে দু’দফা হামলায় ঘটনায় ঐ পরিবারের নারী পুরুষ শিশুসহ ৮ জন আহত হয়।বাড়ীঘর হারিয়ে আহতরা চিকিৎসার জন্য শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। এ অবস্থায় পাগল দাস,স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগীতায় মামলার জন্য শ্রীনগর থানায় ¯œরণাপন্ন হয়েও ব্যর্থ হয়।অথচ রহস্যজনক কারনে উল্টো হামলাকারীদের মামলায় ফেঁসে যান তিনি ও তার পরিবার।পাগল দাস অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী নিতাই দাস,হরিদাস,রুহিদাস ও খোকন দাস আদালতের রায় ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শনিবার বিকেলে ৩০-৪০জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় নারী,পুরুষ শিশুসহ আমার পরিবারের অন্তত ৮জন গুরতর আহত হয়।

ঐদিন রাত ৮টার দিকে হরিদাস, রুহিদাস, খোকন দাস পুনরায় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমার বাড়ী ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও জবর দখল করে ঘরে তালা লাগিয়ে দেয়।এসময়ে বারবার পুলিশের সহযোগীতা চেয়েও আমরা ব্যর্থ হই।রাত ১০টার দিকে শ্রীনগর থানার এসআই আনিছুর রহমান ঘঠনাস্থলে পৌঁচ্ছার পর রহস্যজনক কারনে ফেরত চলে আসেন। এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, বাড়ৈখালি গ্রামের হত দরিদ্র পাগল দাস ঋষি নিজের বসত বাড়ি রক্ষার্থে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ২০০৯ সালে মুন্সীগঞ্জ সহকারী জজ আদালতের রায় পান।

ততকালীন শ্রীনগর থানা পুলিশ ও আদালতের নিয়োগ প্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে অবৈধ দখলদার নিতাই দাস গংদের উচ্ছেদ করে তাদের দখল বুঝিয়ে দেয়। সেই থেকে নিজ ভ’মিতে বাড়ি বানিয়ে কোনো মতে দিনাতিপাত করছিলেন। কিছুদিন যাবৎ পূর্বের ঐ অবৈধ দখলদার ও তার সহযোগীরা তাকে বসতভিটা থেকে উৎখাতের পায়তারা করলে পাগল ঋষি দাস আবারও আদালতের সরণাপন্ন হন। এতে মাননীয় আদালত ওই জায়গায় স্থিতি অবস্থা (নিষেধাজ্ঞা) জারি করেন।

এতদ্ব্যসতে¦ও নিতাই দাস ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলামের আশ্রয় নেয়।এরপর এএসপি সার্কেল পাগল ঋষি দাসকে তার কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য কয়েকটি নোটিশ দেন। অবশেষে এরই জের ধরে নিতাই দাস ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী গত শনিবার দু’দফা হামলা চালিয়ে পাগল ঋসি দাসের বাড়ী-ঘর দখল করে নেয়।এঘটনায় উভয় পক্ষ শ্রীনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও রহস্যজনক কারনে বাড়ী-ঘর হারা নির্যাতিতদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে উল্টো দখলবাজদের মামলায় হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় পুলিশ হাতকড়া লাগিয়েছে তপন দাস ও পাগল ঋষি দাস কে।এব্যাপারে শ্রীনগর থানার ওসি(তদন্ত) ফরিদউদ্দিন বলেন,এক পক্ষের মামলা হয়েছে অন্য পক্ষের মামলা হয়েছে কিনা খোজ নিয়ে জানাব।