শ্রীনগরে বাড়ি দখলে নিতে হামলা-ভাংচুর, আহত ১০

আদালতের রায় উপেক্ষা
শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী গ্রামের হতদরিদ্র পাগল দাস ঋষি আদালতের মাধ্যমে বেদখলে থাকা তার বসতভিটা ফিরে পেলেও ওই দখলদাররা শনিবার তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। এ সময় হামলায় পাগল দাস ঋষিসহ ১০ জন আহত হন।

নিজের বসতবাড়ি দখলমুক্ত করতে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ২০০৯ সালে মুন্সীগঞ্জ সহকারী জজ আদালতের রায় পান পাগল দাস ঋষি। শ্রীনগর থানা পুলিশ ও আদালতের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিনিধির সমন্বয়ে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে পাগল দাস ঋষিকে তার ভিটেবাড়ি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন ধরে আগের দখলদার স্থানীয় নিতাই দাস ও তার সহযোগীরা নানাভাবে হয়রানি করতে থাকলে পাগল দাস ঋষি ফের আদালতের শরণাপন্ন হন। এতে আদালত ওই জায়গায় স্থিতাবস্থা (নিষেধাজ্ঞা) জারি করেন। এ অবস্থায় গত শনিবার দুপুরে নিতাই দাস ও তার সহযোগীরা আদালতের রায় ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পাগল দাস ঋষির বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় পাগল দাস ঋষি, তপন ঋষি, নিতাই দাসসহ ১০ জন গুরুতর আহত হন। ওই দিন রাতে নিতাই দাস ও সহযোগীরা বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে ফের হামলা চালিয়ে পাগল দাস ঋষির বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালায় এবং একটি ঘরে তালা দিয়ে দেয়। খবর পেয়ে শ্রীনগর থানার এসআই আনিছুর রহমান রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পেঁৗছে ঘরের তালা খুলে পাগল দাস ঋষির নাতির বই, খাতা-কলম বের করে দিয়ে ফের ঘরে তালা লাগিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে এসআই আনিছুর রহমান জানান, পুলিশ যাওয়ার আগে ভাংচুর চালানো হয়েছে। নাতির পরীক্ষার কথা বলায় তার বই, খাতা-কলম বের করে দিয়েছি। আহত পাগল দাস ঋষি হাসপাতাল থেকে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

বাড়ৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. সেলিম হোসেন তালুকদার বলেন, নিতাই দাসকে আদালতের রায়কে সম্মান দেখাতে বলা হয়েছে। শনিবার রাতের তাণ্ডব কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পাগল দাস ঋষি দুর্বল বলেই তার ওপর এমন অত্যাচার চলছে। শ্রীনগর থানার ওসি এসএম আলমগীর হোসেন জানান, দু’পক্ষের লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *