ভোগান্তি: নৌ-পথে, বাসে জিম্মি মুন্সীগঞ্জবাসী

মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকার দূরত্ব মাত্র ২৮ কিলোমিটার। এতো কাছের জেলা হয়েও ভালো বাস সার্ভিস ও সরাসরি কোনো নৌ-যান চলাচল না করায় দুর্ভোগে পড়ছেন জেলাবাসী।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী, বেসরকারি চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ জীবিকার তাগিদে রাজধানীর ওপর নির্ভরশীল।

দিঘীড়পাড় ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের বাস ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কপথে চলাচলের একমাত্র সার্ভিস। আরেকটি সার্ভিস ‘কুসুমপুর’ থাকলেও কয়েকটি বাস এবং প্রায়ই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আস্থা নেই যাত্রীদের। এ রুটে বিআরটিসি চালু হলেও তা এখন বন্ধ।

নৌ-পথে লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চে নারায়ণগঞ্জ বন্দর ঘাট নেমে বাস কিংবা ট্রেনে যাতায়াত করতে হয়। বিরুপ আবহাওয়া, ডাকাতি, দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে যাতায়াত করতে হয় যাত্রীদের। ঢাকার সদরঘাট যেতে মাঝ নদীতে ট্রলারে উঠতে হয়।

বিআরটিএ’র ২০১৩ সালের প্রজ্ঞাপন অনুসারে কিলোমিটারপ্রতি বাস ভাড়া ১ টাকা ৪০ পয়সা (টোল, ফেরি থাকলে), স্বাভাবিক ভাড়া ১ টাকা ০৭ পয়সা। সে অনুসারে এ রুটের সর্বোচ্চ ভাড়া হওয়ার কথা ৪০ টাকা। কিন্তু দিঘীড়পাড় ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড নিচ্ছে যাত্রীপ্রতি ৬০ টাকা।

যাত্রীদের অভিযোগ, শহরের লিচুতলা কাউন্টার থেকে যাত্রা শুরু করে দিঘীড়পাড়। বাসের সব সিটে যাত্রী না বসা পর্যন্ত ছাড়ে না। অতিরিক্ত যাত্রীও ওঠানো হয়। প্রতিবাদ জানালে ‘বাস কিন্তু সামনে আর যাবে না’ বলে হুমকি দেন ড্রাইভার ও সহকারী।

দিঘীড়পাড়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) নূর হোসেন ব্যাপারি বলেন, ‘ঢাকা রুটে আমাদের ৫২টি বাস চলাচল করে। জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় ৬০ টাকা ভাড়া ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এটি ঠিক যে, মুন্সীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটারের দূরত্ব। কিন্তু আমাদের লিচুতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে গুলিস্তান (ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চ সংলগ্ন) পর্যন্ত দূরত্ব হয় ৩৩ কিলোমিটার’।

সরকারি নিয়মে ৩১টি সিট থাকার কথা থাকলেও দিঘিরপাড় বাস সার্ভিসে রয়েছে ৩৩টি। এর সপক্ষে তার দাবি, বাসের সঙ্গে স্টাফ-পুলিশসহ অনেকেই ফ্রি যাতায়াত করেন।

প্রায়ই যাতায়াতকারী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস এম আলী আজগর বলেন, ‘এ বাস সার্ভিসের কারণে আমাদের জেলার সুনাম কমছে। এ রুটে রাত ১০টার পর যাতায়াত করলে চুরি-ছিনতাইয়ের ভয় থাকে। অথচ রাত ৯টা ২০ মিনিটের পর কোনো লঞ্চ চলাচল করে না নৌ-রুটে। নারায়ণগঞ্জের লঞ্চে চাষাড়া নামলে লেগুনা কিংবা সিএনজি চালিত অটোরিকশায় অতিরিক্ত যাত্রী ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর