ড্রেজারে বালু উত্তোলনে পদ্মায় ভাঙনঃ টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর দীঘিরপাড় ও কামারখাড়া এবং লৌহজংয়ের দক্ষিণ যশলদিয়া, চাইরপাড়া ও আশপাশ এলাকায় একটি চক্র অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে পদ্মার তীরঘেঁষে বালু উত্তোলন করায় ওইসব এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুটি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে তীরঘেঁষে বালু কেটে নিচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। চলতি মাসের শুরু থেকেই টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজংয়ে পদ্মা-তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া, হাসাইল-বানারি, দীঘির পাড়, পাঁচগাঁও এবং লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া, কুমারভোগ ও মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী ২০টি গ্রামে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগে জানান, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন হালদারের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট পদ্মায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে তীরঘেঁষে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তাই পানি বাড়ার সঙ্গে ঘূর্ণায়মান স্রোতে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। ফলে কামারখাড়া ইউনিয়নের ৫টি গ্রাম এখন ভাঙনের কবলে পড়েছে। কামারখাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হালদার বলেন, ৫টি গ্রাম ভাঙনের হুমকির মুখে থাকলেও ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটায় ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা।

অন্যদিকে গত মে মাসে লৌহজংয়ের মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়নের দক্ষিণ যশলদিয়া থেকে উত্তর যশলদিয়া পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকায় ৬টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে পাইপ বসিয়ে বিভিন্ন গ্রামে বালু বিক্রি করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি সিন্ডিকেট। তীরঘেঁষে বালু উত্তোলনের কারণেই জুলাই মাসের শুরুতেই মাওয়া, কান্দিপাড়া, যশলদিয়া, কবুতরখোলা, চাইরপাড়া গ্রামসহ আশপাশ এলাকায় পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। মেদেনীমণ্ডল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আর কেউ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে না।

সমকাল