৫ দিন অতিবাহিত হলেও প্রভাবশালীর চাপের মুখে অসহায় পরিবারটি এখন দিশেহারা

মুন্সীগঞ্জে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নওসংকর গ্রামের নওসংকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণিতে পড়–য়া ৮বছরের এক শিশু একই গ্রামের জুয়েলমৃধার ছেলে মাহিন (১৮) এর ধর্ষণের শিকার হয়ে এখন মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। অবুজ এই শিশু কখনই বুঝতেই পারেনি জীবনে এ রকম এক অবাঞ্চিত ঘটনার মুখোমুখি হবে সে। এ অবাঞ্চিত ঘটনার মুখোমুখি হয়েও তার বাবা আলআমিন (৩২) মা মাকসুদা বেগম (২৮) প্রভাবশালী ধর্ষক মাহিন (১৮) এর পিতা জুয়েল মৃধার হুমকির কারণে এখন অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে। একদিকে মেয়ের সম্মান হারানো অন্যদিকে প্রভাবশালী জুয়েল মৃধার হুমকি। এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে এ অসহায় পরিবারটি।

ঘটনার ৫দিন অতিবাহিত হলেও ধর্ষক পরিবারের কেউ মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে আসেনি একটিবার এ অবুঝ শিশুটিকে দেখার জন্য। আমরা যখন মেয়েটিকে দেখার জন্য সদর হাসপাতালের ২নং কেবিনের পাশে গিয়ে দাঁড়াই তখন শিশুটি ফেল ফেল করে অবাক দৃষ্টিতে শুধু তাকিয়ে দেখছিল আর এ সমাজকে ধিক্কার দিচ্ছিল। তার দুটো চোখ থেকে জলের ধারা প্রবাহিত হচ্ছিল। এ জলের ধারার মাঝে হয়ত এই সভ্য সমাজের প্রতি ঘৃণা, ক্ষোভ আর বিচারহীনতার কথাই জানান দিচ্ছিল এমনটিই অনুধাবন হচ্ছিল আমাদের মনে। তার মাথায় হাত বুলাতেই ঢুকরে কেঁদে উঠল। এতক্ষণে যেন তার নিরবতার বাধ ভেঙ্গে শব্দ চয়ন আত্মপ্রকাশ করল। লিকলিকে হালকা ধরণের ছোট্র শিশুটির ভবিষ্যৎ কেমনভাবে যাবে সে জানে না। যে বয়সে তার জীবন যাত্রা শুরু করার কথা ছিল সেটি না হয়ে খেলার বয়সেই তার সম্মানটুকু লুণ্ঠন করে নিল সভ্য সমাজ নামের অসভ্য দুর্বৃত্ত।

শিশুটির বাবা আল আমিন জানান, গত ১০ জুলাই আমার মেয়ে তার ছোট ভাই মাসুদ ও তার সহপাঠী আমবাগানে খেলতে গেলে জুয়েল মৃধার ছেলে মাহিন (১৮) তার মুখ বেঁধে কাঁশবনের ভিতরে বন্ধুদের সাথে নিয়ে ধর্ষণ করে। একপর্যায় মৃত ভেবে অচেতন অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে একাধারে ৫দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে ডাঃ এনামুল হকের চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ্য হলেও এখন আতঙ্ক কেটে যায়নি তার।

মা মাকসুদা বেগম (২৮) কাঁদতে কাঁদতে যেন তার চোখের জল ফুড়িয়ে যাচ্ছিল। তার আক্ষেপ এ ধরণের জঘন্য কাজ করেও সমাজে ধাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে জুয়েল মৃধার ছেলে মাহিন। যেন এটা কোন অন্যায়ই নয় তার কাছে। মাহিনের পরিবার শিশুটি বেঁচে আছে না মারা গেছে তা একটি বারের জন্যও দেখতে আসেনি। বরং ঘটনার কথা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ি থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে বলে শিশুটির বাবা আলআমিন জানান। অভিযোগটি দিঘিরপাড় থানার এসআই আবুল কালাম তদন্ত করছেন বলেও জানা যায়।

এ ব্যাপারে তদন্তকারী এসআই আবুল কালাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। কোনক্রমেই আসামী ছাড় পাবে না বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে গাইনি চিকিৎসক ডাঃ এনামুল হক বলেন, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি তাকে সুস্থ্য করার জন্য। তবে এ রকম ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। আমরা এমন ঘটনা প্রত্যাশা করিনা।

শীর্ষ সংবাদ