৩৫বছর শিক্ষকতা শেষে অবসরে গেলেন বীনা রানি দত্ত

নুরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শ্রীমনি বীনা রানী দত্ত সুদীর্ঘ ৩৫ বছর শিক্ষকতা শেষে অবসর গ্রহন করেন। তার শিক্ষকতা জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট হলো-তিনি কখনো ছুটি নিতেন না, সবার আগে বিদ্যালয়ে আসতেন এবং সবার পরে বাসায় ফিরতেন, তিনি মায়ের স্নেহ-আদর-ভালোবাসা দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা দিতেন, তার হাতে গড়া অনেক ছাত্র-ছাত্রী সমাজের বিভিন্ন স্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত, শিক্ষা ক্ষেত্রে তার এই সততা-নিষ্টা আর কর্তব্য পরায়নতার জন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন সময় পুরুস্কৃত হয়েছেন। এই ঞ্জান তাপসের বিদায় উপলক্ষে মিরকাদিম পৌরসভাস্থিত (মুন্সিগঞ্জ সদর) নুরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যাবস্থাপনা কমিটি ও শিক্ষকমন্ডলী বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করে।

বিদ্যালয় ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহাম্মদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন, মিরকাদিম পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডেও সম্মানিত কাউন্সিলার মোঃ আমির হোসেন চৌধূরী, সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিন আহাম্মদ, ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতি গোলাম ফারুক জমিদার, সদস্য আনিস জমিদার, শিক্ষক ও অভিবাবক মন্ডলী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর কুমার দে এর পরিচালনায় এবং শিক্ষকমন্ডলীর ব্যবস্থাপনায় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর কুমার দে, মো:মহিউদ্দিন আহাম্মদ, আমির হোসেন চৌধূরী, গোলাম ফারুক জমিদার, প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

বীনা রানী দত্ত অশ্রু নয়নে বলেন, এই বিদ্যালয়কে আমি নিজের উপাশনালয় মনে করি, বিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের নিজের সন্তান মনে করি, আমার একাতিত্ব জীবনে ওরাই ছিল আমার জীবন সাথী, ওদের ছেড়ে থাকতে হবে.মনে হলেই আমার কান্না আসে, মন ছোট হয়ে যায়, বাকী জীবনটা আমি পরকালের প্রস্তুতি নিব, আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।

সভাপতির বক্তব্যে কামাল আহম্মেদ বলেন, মানুষের জীন ক্ষনস্থায়ী, এই ক্ষনজম্মা জীবনে কতো ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করতে হয়, আপনার অবসর হলো জীবনেরই এশটি অংশ, এই বাস্তবতাকে যত তাড়াতাড়ি গ্রহন করবেন বাকী জীবনে ততই প্রশান্তি লাভ করবেন, আপনি শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে গেলেও- আপনি বেঁেচ থাকবেন, যাদের আপনি মানুষ করেছেন তাদের মাঝে, সৃষ্টিকর্তা আপনার বাকী জীবনটা সুখময় করুক সেই আর্শিবাদ করছি।

আলোচনা শেষে ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকমন্ডলীর পক্ষ থেকে এবং ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ তাদেও প্রিয় শিক্ষক বীনা রানী দত্তকে উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।

সুরব আহাম্মেদ জনি, চেতনায় একাত্তর