যুগান্তর ও কালের কন্ঠ পত্রিকার বিরুদ্ধে কৃষক লীগ নেতার জিডি

শ্রীনগরে কৃষকলীগ নেতার হুমকিতে ৩ মাস ধরে এলাকা ছাড়া একটি পরিবার’ সংবাদটি গত ১০ জুলাই দৈনিক যুগান্তর ও কালের কন্ঠ পত্রিকা সহ বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়। এঘটনায় বুধবার রাতে উপজেলার বীরতারা ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি আজগর আলী ওরফে মেন্দী মাদবর বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় জিডি করেছেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন তার হুমকিতে তিন মাস ধরে এলাকা ছাড়া হয়ে থাকার বিষয়টি সঠিক নয়। একারনে তার মান সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। সংবাদে প্রকাশিত ওই কৃষকলীগ নেতার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলার আসামী হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ হলেও তিনি জিডিতে তা উল্লেখ করেননি।

তিন মাস ধরে এলাকা ছাড়া বীরতারা গ্রামের ওই পরিবারটির প্রধান আ: হাকিম জানান, শুধু মাত্র একটি সংখ্যালঘু পরিবারের জমির দলিলে সাক্ষী হওয়ার করনে কৃষক লীগ নেতা আজগর আলীর হুমকিতে ৩ মাস ধরে তিনি এলাকা ছেড়ে রয়েছেন। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর থেকে তাকে আরো হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি প্রচন্ড মানসিক চাপে অসুস্থ্য হয়ে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তিন মাস পূর্বে হুমকি পাওয়ার কয়েকদিন পরই গত ২ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জ আদালতে আ: হাকিম মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে শ্রীনগর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে তদন্তাধীন রয়েছে।

বীরতারা গ্রামের কাশেম সাধু জানান, ১৯৮৯ সালের মে মাসে বীরতারা বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে তার বড় ভাই আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহানকে পিটিয়ে হত্যা কার হয়। এমামলায় আজগর আলী অন্যতম আসামী।

স্থানীয়রা জানান, বীরতারা এলাকায় শাহজাহান হত্যার আগে জবাই করে হত্যা করা হয় আওয়ামী লীগের আরেক কর্মী মান্নাকে। আজগর আলী এই মামলায়ও আসামী ছিলেন।

ঢাকার সদর ঘাট ইষ্ট বেঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক জালাল মাষ্টারের ছেলে ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম রাজু জানান, ওই সময় তার বাবাকেও বেদম মারপিট করা হয় এবং একটি চোখ উপরে ফেলার চেষ্টা করে আজগর আলী ও তার লোকজন। বার বার দল বদল করে সে তার অপশক্তি এখনো ধরে রেখেছে। বর্তমানে এর প্রভাব পরছে বীরতারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উপর।

যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন সেই দলে ভিরে যাওয়ার কারণে স্থানীয়দের কাছে তিনি পল্টি মাদবর হিসাবে পরিচিত। মূলত তার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্যই তিনি সবসময় সরকারী দলকে বেছে নেন।

কৃষকলীগের সভাপতি হওয়ার আগে তিনি বীরতার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এসময় তিনি বি চৌধুরীর প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন বীরতারা ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী খানকে ১৫ আগষ্টে শোক দিবস পালনের কারনে প্রকাশ্যে দিবালোকে পানিতে চুবিয়ে আহত করেন।এর আগে এরশাদ সরকারের আমলে তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতেন। ওই সময়ে তার নির্যাতনের একাধিক কাহিনী রয়েছে।

কৃষক লীগে ভিড়েই তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি বি’চৌধুরীর সাথে টক্কর দিয়ে দীর্ঘদিন যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন তাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেন। তার নীল নকশার খরগ থেকে রক্ষা পায়নি পরীক্ষিত যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কর্মীরাও।

বীরতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিম হোসেন খান জানান, জমাজমি সংক্রন্ত ঝামেলার কারনে আ ঃ হাকিম ৩ মাস ধরে এলাকা ছাড়া বলে শুনেছি।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আলমগীর হোসেন জানান, জিডির পূর্বেই পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি শ্রীনগর থানার ওসি (অপারেশন) কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষকলীগ নেতার জিডির বিষয়ে খোজ নিয়ে দেখা হবে।

ক্রাইম ভিশন