সিরাজদীখানে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত মিস্ত্রিরা

ইমতিয়াজ বাবুলঃ সিরাজদীখান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মাঝি ও মিস্ত্রিরা। বর্ষা মৌসুমে নিচু এলাকার লোকজনকে ঘর থেকে বের হলেই প্রয়োজন হয় নৌকার। এ কারণে কদর বেড়ে যায় নৌকার। আবহমানকাল থেকে বর্ষা মৌসুমে এ এলাকার মানুষ কোসা নৌকা ব্যবহার করে আসছে। বর্ষার পানিতে যখন খাল-বিল ও বাড়ির চারপাশ থৈথৈ করে, তখন মানুষজন কোসা নৌকার মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে।

উপজেলার নিচু এলাকার বাসিন্দারা নৌকার মাধ্যমে খেয়া পার হয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজারে যাতায়াত করে থাকেন। এ সময় কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য বহনে কোসা নৌকাই ব্যবহার করেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার কাঠমিস্ত্রিরা এখন নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও রাস্তার পাশে নৌকা তৈরি ও বিক্রি করতে দেখা যায়। উপজেলার ইমামগঞ্জ বাজার, মালখানগর এবং ইছাপুরা বাসস্ট্যান্ডের পাশে গড়ে উঠেছে ডিঙি ও কোসা নৌকা তৈরি ও বিক্রির বাজার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ক্রেতারা তাদের পছন্দসই নৌকা এখান থেকে কিনে থাকেন।

সিরাজদীখান উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের বিশ্বনাথ মণ্ডলের ছেলে রতন মণ্ডল জানান, নৌকা তৈরি তাদের পারিবারিক পেশা। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে নৌকা তৈরির কাজ করছেন তিনি। বর্ষা এলেই নৌকা তৈরির কাজ বেড়ে যায়। নৌকা তৈরিতে বিশেষ কোনো কাঠ নির্দিষ্টভাবে ব্যবহার হয় না। আগে ভালো ভালো কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করা হতো। এখন কড়ই, চাম্বল ও মেহগনি দিয়েই বেশি নৌকা তৈরি করা হয়। নৌকা তৈরিতে কাঠ ছাড়াও মাটিয়া তৈল, আলকাতরা, তারকাঁটা, গজাল, পাতাম ইত্যাদি লাগে, যা নৌকাকে দীর্ঘদিন টেকসই রাখে। দু’জনে প্রতিদিন দুটি ডিঙি নৌকা তৈরি করতে পারেন। একটি নৌকা তৈরিতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রি হয় চার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায়। সিরাজদীখানের ইউএনও তানবীর মোহাম্মদ আজিম বলেন, কোসা নৌকা নির্মাণ ও ব্যবহারের সুদীর্ঘকালের ঐতিহ্য রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ বাহনকে ধরে রাখতে এবং নির্মাণ শ্রমিকদের টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সমকাল