টানা চারদিন ধরে পদ্মায় ফেরি চলাচল ব্যাহত

জসীম উদ্দীন দেওয়ান : পদ্মায় প্রবল স্রোত, নাব্যতা সংকট ও ঘুর্ণিবাকের ফলে টানা চার দিন ধরে শিমুলিয়া- কাঠাঁলবাড়ি নৌরুটে ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। ফলে প্রতিদিনই ঘাটে জমে থাকতে দেখা যাচ্ছে শত শত যানবাহনের সারি। সোমবার ভোরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে চারটি ফেরি আটকে যাবার পর থেকে, দুই কিলোমিটার পথ ঘুরে দ্বিগুন সময় নিয়ে নাও ডোবা চ্যানেল দিয়ে যাচ্ছে ফেরিগুলো। এই রুটের ফেরিতে থাকা চালকের রুমের ইকো সাউন্ড মেশিনের শব্দে চালকদের বলে দিচ্ছে লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে পানির গভীরতা মাত্র আট থেকে দশ ফুট।

এমনটি নিশ্চিত করে কুমিল্লা ফেরির চালক ফিরোজ আহাম্মেদ বলেন, খুব ঝুঁকি নিয়ে পথ পাড়ি দিতে হয় তাদের। বর্তমানে সাত থেকে আট নটিক্যাল মাইল বেগে বয়ে যাওয়া পদ্মার স্রোত ও প্রবল শক্তিধর ঘূর্নিবাঁকে চরমভাবে ব্যাহত শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌ রুটের ফেরি চলাচল। ফলে তিন চার দিন পারাপারের অপেক্ষায় থাকা শত শত পন্যবাহী যানবাহনের চালক ও হেল্পপাররা খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিন পারছে বলে জানান তারা।

এদিকে স্রোতের প্রতিকূলে ফেরি চলাচলে ঝুঁকি বাড়ার কারণে ঝুঁকি এড়াতে শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া ফেরি গুলোকে দ্ধিগুন সময় নিয়ে যেতে হচ্ছে নাও ডোবা চ্যানেল হয়ে। আর কাঁঠাল বাড়ি থেকে ছেড়ে আসা ফেরিগুলো ধীর গতিতে আসে লৌহজং টানিং পয়েন্ট হয়ে। আর সময়ের বেশি ব্যবধানে প্রতিনিয়তই ঘাটে জমে থাকে শত শত যানবাহন।

সোমবার থেকে শিমুলিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ থাকায়, পারাপারের অপেক্ষায় থাকা ব্যাক্তিগত অনেক গাড়িই বিকল্প পথের উদ্দেশ্যে ফিরে যায় শিমুলিয়া ঘাট থেকে। আর ঘাটে আসা গনপরিবহনগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করায় কর্তৃপক্ষের আচরণে ক্ষোভ জানান ট্রাক চালকরা।

এই রুটে চলা ১৬টি ফেরির মধ্যে নতুন দুটি ফেরি ছাড়া বাকি ১৪টির বয়স ২৫- থেকে ৩০ বছর। বর্তমানে প্রবল ¯্রােতের এই পদ্মা ঠেলে যেগুলোর চলা কষ্ট হয়ে পরেছে বলে মনে করছেন, বি আই ডব্লিউ টিসির শিমুলিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক আব্দুল আলীম। তিনি আরো জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে লৌহর্জং টার্নিং পয়েন্টের পথটি পুরোপুরি নৌ যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরার সম্ভবনাও দেখছেন তিনি।

তবে মাওয়া ড্রেজিং বিভাগ মুন্সীগঞ্জ ২৪ ডট কমকে জানিয়েছেন, ৭-৮ নটিক্যাল মাইল বেগে বয়ে যাওয়া ¯্রােত ভেদ করে ড্রেজিং করা সম্ভব নয়। এই দ্রুতের সাথে পাল্লা দিয়ে নদীতে ড্রেজিং করতে হলে প্রয়োজন উন্নত মানের ড্রেজারের। যেটার প্রয়োজনীয় খরচের বরাদ্দ চেয়ে মার্চ মাসেই অর্থ মন্ত্রনালয়ে আবেদন করা হয়েছে। যার কোন সারা আজও মিলেনি বলেও জানান তারা। বি আই ডব্লিউ টিসির হিসেব মতে. স্বাভাবিক ভাবে প্রতিদিন শিমুলিয়া ঘাট হয়ে পারাপার হতে পারে দুই হাজার যানবাহন, নানা কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সোম ও মঙ্গলবার দুদিনে মিলে পার হতে পারেনি দুই হাজার গাড়িও।