শাপলার টাকায় সংসার চলে…

ইমতিয়াজ বাবুলঃ শাপলা। এটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি তরকারি হিসেবে খেতেও সুস্বাদু। কেউ খান শখ করে, আবার কেউ খান অভাবে পড়ে। অভাবগ্রস্ত বা নিতান্ত গরিব লোকজন এ বর্ষা মৌসুমে জমি থেকে শাপলা তুলে তা দিয়ে ভাজি বা ভর্তা তৈরি করে আহার করে থাকেন। আর শহরে লোকজন শখের বসে এ মৌসুমে ২-৪ দিন শাপলা তরকারি বা ভাজি খেয়ে থাকেন। আর সেই শাপলা বিক্রি করে এখন জীবিকা নির্বাহ করছে সিরাজদীখান উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত পরিবার। কৃষিজমি পানির নিচে থাকায় এ মৌসুমে কৃষকের তেমন কোনো কাজ নেই। তাই এলাকার অনেক কৃষক বর্তমানে এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। এ পেশায় কোনো পুঁজির প্রয়োজন না হওয়ায় বিভিন্ন বয়সের লোক এ পেশায় অংশ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। শাপলা সাধারণত তরকারি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

এ বর্ষায় সিরাজদীখান উপজেলার ডুবে যাওয়া বিভিন্ন ইরি, আমন ধান ও পাটক্ষেতে শাপলা ব্যাপকভাবে জন্মেছে। এ ছাড়া এলাকার ইছামতি খালের পানিতেও শাপলা ফুল ফুটেছে সৌন্দর্য আর নয়নাভিরাম দৃশ্য নিয়ে। শাপলা ফুল সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শুরু করে কার্তিক মাস পর্যন্ত পাওয়া যায়। তবে মৌসুমের শেষ অর্থাৎ কার্তিক মাসে তেমন বেশি পাওয়া যায় না। এলাকার শাপলা সংগ্রহকারী কৃষকরা ভোর থেকে নৌকা নিয়ে ডুবে যাওয়া জমিতে ও বিলের মধ্যে ঘুরে ঘুরে শাপলা সংগ্রহ করতে শুরু করেন।

লতব্দী ইউনিয়নের চর নিমতলার বিল থেকে শাপলা সংগ্রহকারী তাজের ইসলাম (৪৫) জানান, এ সময়ে একেকজন কমপক্ষে ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ মুঠি সংগ্রহ করতে পারেন। পাইকাররা আবার সংগ্রহকারীর কাছ থেকে এসব শাপলা সংগ্রহ করে একত্রে করেন। সিরাজদীখানের রসুনিয়া, ইমামগঞ্জ, নিমতলা ও তালতলায় শাপলার পাইকারি ক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। পাইকাররা এখান থেকে শাপলা ক্রয় করে নিয়ে পরে রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী বাজারে বিক্রি করে থাকেন।

উপজেলার দানিয়াপাড়া গ্রামের পাইকার চাঁন মিয়া শিকদার বলেন, শাপলা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার মুঠি শাপলা ক্রয় করে থাকেন। সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে এক মুঠি শাপলা ১৫ টাকা দরে ক্রয় করেন। তারপর গাড়ি ভাড়া ৩ টাকা, লেবার ১ টাকা, আড়ত খরচ ২ টাকাসহ মোট ১৭-১৮ টাকা খরচ পড়ে। ঢাকার যাত্রাবাড়ী আড়তে শাপলা বিক্রি হয় ২৫- ২৭ টাকা মুঠি।

সমকাল