মুন্সীগঞ্জে বিলীন হচ্ছে বাড়ি বাজার ফসলি জমি

পদ্মার ভাঙন
কাজী সাবি্বর আহমেদ দীপুঃ পানি বৃদ্ধির সঙ্গে স্রোতের তীব্রতা ও বড় বড় ঢেউয়ের কারণে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং উপজেলার পদ্মা-তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙন তাণ্ডব শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে লৌহজংয়ের গাঁওদিয়া গ্রামের ১৫টি বসতবাড়ি, ফসলি জমি, খেলার মাঠ, গাঁওদিয়া বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানঘর আকস্মিক ভাঙনে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। শুক্রবার রাতে গাঁওদিয়া গ্রামের রামা ডাক্তারের বাড়ির একটি অংশ পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। গতকাল রোববারও লৌহজংয়ের শামুর বাড়ি ও গাঁওদিয়া এলাকায় পদ্মার ভাঙন তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলার পদ্মারচর, কুমারভোগ ইউনিয়নের শিমুলিয়া বাজার, খড়িয়া গ্রাম, মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রাম, যশলদিয়া গ্রাম, মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাটসহ নদী-তীরবর্তী বেশ কিছু এলাকায়ও দেখা দিয়েছে পদ্মার ভাঙন। অন্যদিকে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পাঁচগাঁও, হাসাইল, কামারখাড়া ও দীঘিরপাড় এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে বড় বড় ঢেউ নদী-তীরবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়ায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫ বসতবাড়ি বিলীন হওয়ার পর থেকে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা নদী-তীরবর্তী ও আশপাশের এলাকায় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া যেসব বসতবাড়ি যে কোনো সময় পদ্মায় বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেসব ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পদ্মার ভাঙন তাণ্ডব শুরু হওয়ায় লৌহজংয়ের গাঁওদিয়া ইউনিয়নে বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে জৈনপুরী পীরের খানকা শরিফ, গাঁওদিয়া বাজারের মসজিদসহ তিনটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা, গাঁওদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাঁওদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, বিখ্যাত লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানাবাড়ি, গাঁওদিয়া বাজারের বাকি অংশ, কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি খেলার মাঠ, চারটি ক্লাব, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির গ্রামের বাড়ি শামুরবাড়ি, ইউনুছ খান মেমোরিয়াল হাসপাতাল, মসজিদ, হাড়িদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, খেলার মাঠ, কবরস্থান, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা। এমনকি লৌহজং-বেজগাঁও-গাঁওদিয়া বেড়িবাঁধটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে।

গাঁওদিয়া গ্রামের সাবেক মেম্বার মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি ও লৌহজং উপজেলা চেয়ারম্যান ওসমান গনি তালুকদার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। এ সময় তারা গাঁওদিয়া গ্রামসহ লৌহজংয়ের নদী-তীরবর্তী এলাকায় শুরু হওয়া পদ্মার ভাঙন তাণ্ডব ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ১৯৯৩ সালে লৌহজং এলাকা ভাঙনের কবলে পড়লে উপজেলার ধাইদা, গারুগাঁও, তেলিপাড়া, ধানকুনিয়াসহ একাধিক গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। পরে গাঁওদিয়া ইউনিয়নের রানাদিয়া, হাড়িদিয়া, বড় মোকাম, গাঁওদিয়া গ্রামের একাংশ পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে আবারও ভাঙন শুরু হওয়ায় গাঁওদিয়া গ্রামের বাকি অংশটুকুও পদ্মায় বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে লৌহজং উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গাঁওদিয়া গ্রামটি।

লৌহজংয়ের ইউএনও মো. মনির হোসেন জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে পদ্মা উত্তাল হয়ে উঠেছে। এতে স্রোতের তীব্রতা বেড়েছে। তবে পদ্মার ভাঙনে ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে_ এমন তথ্য নেই উপজেলা প্রশাসনের কাছে। তারপরও খোঁজখবর নেওয়া হবে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ভাগ্যকূল ও মাওয়া পয়েন্টে প্রতিদিনই পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখনও পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। গতকাল বিকেল পর্যন্ত পানি ৫ দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হয়েছে।

সমকাল