ফলোআপ: রাজীবের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন এমপি এমিলি

‘কিডনি দিয়ে জীবন বাঁচাতে বিয়ে’
কিডনি রোগে আক্রান্ত আনোয়ার হোসেন রাজীবের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে তিনি রাজীবের ঢাকার লালবাগের বাসায় গিয়ে এ কথা জানান রাজীব ও তাঁর পরিবারকে। এ সময় তিনি রাজীব ও তাঁর স্ত্রী রোমানার পাশে বেশ কিছু সময় কাটান এবং ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে রোমানার কিডনি দান ও বিয়ের বিষয়টি মন দিয়ে শোনেন। এমিলি রোমানার উদার মানসিকতার প্রশংসা করেন।

রাজীবের দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। ফেসবুকে এই তথ্য জেনে তাঁকে কিডনি দান এবং কিডনি দানের আইনি বাধা দূর করতে রাজীবকে বিয়ে করেন রোমানা। এ নিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠের শেষ পৃষ্ঠায় ‘কিডনি দিয়ে জীবন বাঁচাতে বিয়ে’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কালের কণ্ঠকে এমপি সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি জানিয়েছিলেন, তিনি রাজীবের পাশে থাকবেন, যা প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

অধ্যাপক এমিলি বলেন, ‘গতকাল কালের কণ্ঠ’র সংবাদটি মুন্সীগঞ্জবাসীর বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এলাকার অনেকেই ফোন দিয়ে রাজীবের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। আমি পূর্বেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম রাজীবের পাশে দাঁড়াব। কারণ এটা আমার দায়িত্ব। এ রকম মানবিক বিষয় আমরা অবহেলা করতে পারি না। যদি বিষয়টি একটু গুরুত্ব দিয়ে সবাই দেখেন, তবে দেখবেন আজকাল আপন ভাই তার ভাইয়ের জন্য কিডনি তো দূরের কথা, রক্ত পর্যন্ত দিতে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে। আর একটি মেয়ে সব কিছু জেনেশুনে রাজীবকে কিডনি দিতে চাইল। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব না হওয়ায় মেয়েটি রাজীকে বিয়ে পর্যন্ত করে ফেলল। এর মতো মহৎ কাজ আর কী হতে পারে। এখন আমার দায়িত্ব হচ্ছে রাজীবের কিডনি প্রতিস্থাপনে আর্থিক সহযোগিতা করে রাজীব ও রোমানার পাশে থাকা। আমি ব্যক্তিগতভাবে ওদের কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছি। ’ তিনি জানান, চিকিৎসকের পরামর্শমতে এই কিডনি প্রতিস্থাপনে সব ব্যয়ভার তিনি এলাকার লোকজনকে নিয়ে করবেন।

অন্যদিকে গতকাল বিকেলে আনোয়ার হোসেন রাজীব কালের কণ্ঠকে বলেন, গতকালের প্রতিবেদনটির জন্য তিনি কালের কণ্ঠ’র কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনে তিন-চার লাখ টাকার মতো খরচ হয়। কিন্তু আমার স্ত্রীর সঙ্গে রক্তের গ্রুপ ম্যাচ করলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটু জটিলতা রয়েছে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে ভারতেই কিডনি প্রতিস্থাপন করাতে চাই। ভারতের চেন্নাই, ভ্যালোরসহ বেশ কয়েকটি নামিদামি হাসপাতালের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। সেখানে কিডনি প্রতিস্থাপনে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা খরচ পড়বে। তিনি বলেন, ‘সকালে আমাদের এমপি এমিলি আপা আমাকে দেখতে এসেছিলেন। আমার চিকিৎসার ব্যয়ভারের দায়িত্ব নিয়েছেন।

কালের কন্ঠ
ছবিঃ সভ্যতার আলো