বেতকায় সরকারি মাটি বিক্রির ধুম

টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা রায়পুরা এলাকার ধলেশ্বরী নদীর পাড়ের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাটি বিক্রির ধুম পড়েছে। প্রায় ১ মাস ধরে দিন-দুপুরে এ সমস্ত মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে কতিপয় ভূমিদস্যু। প্রশাসন রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এমনকি রায়পুরা মৌজায় ৩৩ জন ভূমিহীনদের জন্য ১৪ শতাংশ করে বরাদ্দকৃত ভূমির মাটি প্রকাশ্যে দিবালোকে বিক্রি করলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। স্থানীয় বেতকা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মনির হোসেনের তত্ত্বাবধায়নে ওই সমস্ত মাটি বিক্রি হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ধলেশ্বরী নদী পাড়ের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে মাটি কাটার ধুম পড়েছে। নদীর মধ্যে ট্রুলার রেখে নদীর পাড়ের সরকারি জমি থেকে মাটি কাটছে শ্রমিকরা। অদূরে দাঁড়িয়ে ওই মাটিকাটা তত্ত্বাবধায়ন করছেন মনির মেম্বারের লোক রায়পুড়া গ্রামের শফি খান ও তার ছেলে স্বপন খান। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বাপ-বেটা মোবাইলে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। শফি খানের সঙ্গে কথা হলে তিনি মাটিকাটার বিষয়টি অস্বীকার করেন। রায়পুরা মৌজার পশ্চিম অংশে মনির মেম্বারের তত্ত্বাবধানে মাটি কেটে বিক্রি করছেন কামাল মোল্লা, আবদুল আলিসহ ৪-৫ জন ভূমিদস্যু।

এ ব্যাপারে মনির মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি প্রশাসনকে মাটিকাটার বিষয়ে অবহিত করেছি, কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নিলে আমি কী করব? এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল হক পাটোয়ারী জানান, আমি পুলিশ পাঠিয়ে এর আগে মাটিকাটা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এখনও মাটি কাটলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব। বেতকা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবুল হাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে মোবাইল ফোন কেটে দেন।

যুগান্তর