মুন্সীগঞ্জের করলা যাচ্ছে বিদেশে

মোজাম্মেল হোসেন সজল: শাক-সবজি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত জেলা মুন্সীগঞ্জ। এ জেলার বজ্রযোগিনী বাজারে প্রতিদিন পাইকারি দামে শাকসবজি বেচাকেনার মহাউৎসব চলে। কৃষকরা জমি থেকে বিভিন্ন শাক-সবজি এনে বিক্রি করছেন। আর এ বাজার থেকে ভালো মানের করলা যাচ্ছে দুবাইয়ে। কৃষকের কাছ থেকে করলা কেনার পর বাজারে বসেই প্যাকেটজাত করার পর তা ট্রাকে করে সরাসরি ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ জেলা মুন্সীগঞ্জ সদরের রামপাল, মহাকালী ও বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেরা ভোরে জমি থেকে করলাসহ অন্যান্য শাকসবজি কেটে বজ্রযোগিনী বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন। এ বাজারে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সবজি বেচাকেনা হয়।

বাজার কাছাকাছি হওয়ায় কৃষকেরও তেমন পরিবহন খরচ গুনতে হয় না। বাজারের শতকরা খাজনা নেয়া হয় ৬ টাকা। এতে কৃষকেরাও খুশি। এ বাজারে করলা ছাড়াও লাউ, ঝালি কুমড়া, জিঙ্গা, কহি, ধুন্দল, শসাসহ গ্রীষ্মকালীন সবধরনের সবজি পাওয়া যায়। বারো মাসই বাজারটিতে নানা ধরনের সবজি বেচাকেনা হয়ে থাকে। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের শাখারীবাজার গ্রামের মো. জামালউদ্দিন। তিনি বজ্রযোগিনীর সবজির হাট থেকে প্রতিদিন অন্তত ১০ মণ বিভিন্ন ধরনের সবজি কিনছেন। এর মধ্যে প্রতিদিন ৫-৭ শ’ প্যাকেট করলা দুবাইয়ে পাঠাচ্ছেন।

একটি প্যাকেটে ৪ কেজি করে করলা রাখা হয়। ঢাকার আলী হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীকে তিনি করলা সরবরাহ করে থাকেন। আলী হোসেনের মাধ্যমে এ করলা প্রতিদিন বিকেল ৩টার ফ্লাইটে দুবাইয়ে চলে যায়। এ ছাড়াও অন্যান্য সবজি ঢাকা, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে থাকেন বলে জানালেন এই ব্যবসায়ী। তিনি আরো জানালেন, ময়মনসিংহ, শেরপুর, মেহেরপুর, বগুড়ার আক্কেলপুর ও ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে তিনি সারাবছরই দুবাইয়ে করলা রপ্তানি করে থাকেন।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর জানালেন, বজ্রযোগিনীর বাজারে গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির মহাউৎসব চলে। স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এই পাইকারি বাজার থেকে করলা বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে এবং কয়েক ট্রাক শাক-সবজি দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়।

মানবজমিন