শ্রীনগরে ২০০ বছরের পুরনো ভবন ভাঙছে প্রশাসন

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় ২০০ বছরের পুরনো দৃষ্টিনন্দন একটি ভবন ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী ভবনটি গত দুই দিন ধরে ভাঙার কাজ চলছে। কিন্তু এটি ভাঙতে গিয়ে ধামরাই থেকে আসা শ্রমিকরা বিস্মিত হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এত নান্দনিক প্রাচীন ভবনটি কেন সংরক্ষণ না করে এভাবে ভেঙে ফেলা হচ্ছে?

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০০ বছরেরও আগে শ্রীনগরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী রাধাকান্ত সাহা পানামনগরের আদলে প্রায় শতাধিক কক্ষবিশিষ্ট তৃতীয় তলা বাড়িটি নির্মাণ করেন। এর কক্ষ, দরজা, জানালা, বেলকনি, চিলেকোঠাসহ বিভিন্ন অংশে তৎকালীন পানামনগরের নকশার নিদর্শন রয়েছে। দেশভাগের পর রাধাকান্ত সাহার পরিবার বিশাল বাড়ি ছেড়ে ভারত চলে যায়। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরে শ্রীনগরকে উপজেলা ঘোষণা করার পর থেকে নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কম্পাউন্ড হিসেবে বাড়িটি ব্যবহৃত হতো। একটি অংশ ইউএনও আবাসিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করতেন। বাকি অংশের কক্ষগুলোতে থাকতেন উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দুই বছর আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকে ইউএনওসহ বাকিরা ভবনটিকে আবাসন হিসেবে ব্যবহার করছেন না। তাই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এটি সংরক্ষণের দাবি ওঠে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এর এগে একটি প্রভাবশালী মহল এটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিলে তা ভেস্তে যায়। কয়েক মাস আগে ভবনটি ভাঙার দরপত্র ডাকে উপজেলা প্রশাসন। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ছয় লাখ টাকায় এটি কিনে নিয়েছে। এখন ভেঙে নেওয়ার কাজ শুরু হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রীনগর উপজেলার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত এ বাড়িটি না ভেঙে তা প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের দাবি উঠেছে।

স্থানীয় সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, ‘প্রাচীন নিদর্শনটি বিনষ্ট করা ঠিক হচ্ছে না। বিশাল এই বাড়িতে এখনো অনেক খালি জায়গা রয়েছে। ভবনটি না ভেঙেও কোয়ার্টার তৈরি করা সম্ভব ছিল।’ তিনি আরো জানান, নতুন করে আবাসনের ব্যবস্থার জন্য পুরনো ভবনে পাশের একটি মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

বিক্রমপুর জাদুঘরের উদ্যোক্তা ও অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ড. নূহ উল আলম লেনিন বলেন, ‘বহু স্থাপনা আছে যেগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণার পরও জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। যেহেতু বিক্রমপুর প্রাচীন সভ্যতার জনপদ। এখানকার প্রাচীন স্থাপনাগুলো নানা ঐহিত্য বহন করে আছে। তাই এগুলোকেও জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। এগুলো ব্যক্তিমালিকানায় হলেও জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে সংরক্ষণ করা উচিত।’

শ্রীনগরের ইউএনও মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগের ইউএনও থাকা অবস্থায় এই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা এবং ভাঙার অনুমোদন আসে। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এই ভবন সংস্কারের সুযোগ নেই। এখানে নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এ কারণে এটা ভাঙা হচ্ছে।’

কালের কন্ঠ
ছবি সংগৃহিত