সরকারি খাল দখল করে ব্যবসা করছে প্রভাবশালী মহল

মন্সীগঞ্জে সরকারি খাল দখল করে ব্যবসা প্রভাবশালী মহলএকের পর এক সরকারি জায়গা, জমি ও খাল দখল করে ব্যবসা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সাবির হাজী এই খালের উপর ২০বছর ধরে ৪তলা বিল্ডিং তৈরী করে বসবাস করে আসছে। অপরদিকে খালের উপরই রয়েছে তার অনেকগুলো অবৈধ কারন্ট জাল তৈরীর কারখানা। বার বার বীরবাড়ির খালটি দখল মুক্ত করার জন্য জরিপ করে লাল নিশান সাটানো হলেও অজ্ঞাত কারণে কোন উদ্ধার তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছে মোটা অংকের বিনিময় প্রশাসন খালটিকে গিলে খাওয়ার সুজোগ করে দিয়েছে। এখানে বৃষ্টির দিন এলে চরম দুর্ভোগে বসবাস করেন অত্র এলাকার সাধারণ জনগণ। এলাকার সাধারণ জনগণের অভিযোগ পায়োনিষ্কাশনের জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। খালটি দখল করায় যেটুকু খাল আছে তাও ময়লা ও মলমূত্রে সয়লাব। সেই মলমূত্র ও ময়লা পানি রাস্তা ও ঘরের সামনে চলে আসে। সামন্য বৃষ্টি হলেই ময়লা পানি মাড়িয়ে আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে হয়।

মন্সীগঞ্জ জেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্র অবস্থিত এই বীরবাড়ির খাল। পুরো মুন্সীগঞ্জ জুড়ে চলছে খাল দখলের মাহ উৎসব। বিভিন্ন থানার সরকারী খাস জায়গাগুলো যে যার মতো করে গিলে খাচ্ছে বাধাহীনভাবে। কোন নিয়ম নীতি মানছেন না তারা; সরকারের উপর মহল তাতে এক ধরনের মুর্তিময় আচরণ করে যাচ্ছে।

বাগবাড়ী এলাকার সুনামধন্য এই বীরবাড়ি নামের খালটি দিয়ে নৌকা চলতো, মাছ ধরতো, গোসল থেকে শুরু করে সকল কাজকর্ম করতো এই খালের পানি দিয়ে। কালের বিবর্তনে এই খালটি এখন নিশ্চিহ্ন হয়ে সাবির হাজির বহুতল ভবনের পিছনে গুমড়ে গুমড়ে কাঁদছে। সেই সুযোগে এলাকার অবৈধ কারেন্টজাল ব্যবসায়ীরা যে যার মতো করে দখল করে কারখানা তৈরী করে ব্যবসা করে আসছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় খালের বেশিরভাগ দখল করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। সাধারণ জনগণ সেখানে নিরুপায়। মুন্সীগঞ্জ সদর থানা থেকে দুই কি:মি: পশ্চিমে, মুক্তারপুর বাগবাড়ী সদর রোড হতে (ছাবির হাজির বাড়ী) দক্ষিন দিকে প্রায় পৌনে এক কি:মি: জায়গা, পঞ্চসার মৌজার ৭১নং ক্ষতিয়ানে সরকারি বীরবাড়ি নামের খালটির সবটুকু দখলে চলে গেছে। যেটুকু বাকী আছে সেটুকুও আস্তে আস্তে দখলে চলে যাচ্ছে। যারা দখল করেছে তারা বলছে আমরা সরকারি খাল দখল করে কারখানা করেছে সরকার চাইলে আমাদের কারখানা ভেঙ্গে ফেলবো। কিন্তু সাবির হাজির চারতলা ভবন আপনারা কি করবেন? এমন প্রশ্ন করে বলেন, রাগব বোয়ালদের থেকে সরকারী জায়গা উদ্ধার করেন পরে আমরা আমাদের ঘর, কারখানা সরিয়ে নেব।

সি.এস, ম্যাপ দেখে অনেক কিছুই বোঝার আছে। রাস্তার দক্ষিনে যেতে হলেই কাঠের একটি পুল ছিল, বর্তমান অবৈধ দখলদারদের কবলে পরে তা মাটি ভরাটের মাধ্যমে বহুতল ভবনের মাধ্যমে হারিয়ে যায়। এখন খালের চিহ্নটুকু নেই।

দখলদার অনেকে বলেছেন সরকারের শক্তিতেই অসাধু লোকদের টাকায় সরকারী খাল এভাবে দখল করে নিয়ে যাচ্ছে। যদি তাই না হয় কি করে সরকারী খালের উপর বড় বড় বহুতল ভবন উঠে, কারখানা তৈরী করে? সরকারী অফিসাররা আসে, সাংবাদিক পরিচয় আসে ছবি উঠায়, লাল নিশান সাটায় কিছুদিন পরে সবকিছু হারিয়ে যায়। কেন এমন হয়? কেন প্রভাবশালীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সরকারী জায়গা দখল মুক্ত করে না? এমন প্রশ্ন পঞ্চসার ইউনিয়নের বাগবাড়ী এলাকার বীর বাড়ী খাল পাড়ে বসবাসরত শত শত লোকের।

জনগনের দাবী মাননীয় জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা ইচ্ছা করলেই এই খালটি পুণ:উদ্ধার করে এলাকার পয়ানস্কাসনের জন্য দখল মুক্ত করতে পারবে। ইতিপূর্বে মুন্সীগঞ্জ জেলার বেশ কিছু কাজ তিনি করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা এবং বীরবাড়ির খালটি উদ্ধার করে পায়ো:নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে মুন্সীগঞ্জ জেলাবাসীর তার প্রতি আস্থা আরো বাড়বে বলে বিশ্বাস করেন তারা।

এ বিষয় খাল দখল কারী মোঃ জয়নাল বলেন, আমি সরকারী খাল দখলের বিষয় অবগত আছি। সরকারের প্রয়োজন হলে আমি আমার কারখানা সরিয়ে ফেলবো। এই জায়গার প্রতি আমার কোন দাবীও নাই বলে জানান তিনি। মোঃ জয়নাল আরও বলেন আমার ঘরের উত্তরে মৃত্য ছাবির হাজী খাল দখল করে বড় ফ্রেক্টরী করেছে সে সময় কেউ বাঁধা দেয় নাই বলে আজও সরকারী খাল বে-দখলের আওতায় আছে। খাল উদ্ধারে প্রশাসনের কোন তৎপরতা নেই বলেও জানান তিনি। আমরা সাধারণ মানুষ টিন দিয়ে ঘর করেছি এটা অবৈধ বলেও জানান তিনি।

এ বিষয় আরেক দখলদার মোঃ রমজান পিতাঃ মোঃ জুলহাস জানান এই খালটি সরকারী মাপে ৩৭ ফুট পাশ, আমি আইন মেনেই আমার দালান করেছি। এই সরকারী খালটি উত্তরে বড় নদীর সাথে সংযোগ ছিলো, ছাবির হাজী ক্ষমতার বলে দখল করেছেন। আমরাও চাই এই খালটি উদ্ধার হইক, আমার যায়গাতেও খাল থাকলে আমি ছেড়ে দিবো।

খাল দখল কারী মৃঃ কাদির খার ছেলে বিল্লাল বলেন, আমার ফ্যাক্টরী আমার ক্রয়কৃত জায়গাতে আছে। সরকারী লোক এসে আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। প্রয়োজনে আপনী ইউনিয়ন পরিষদে এসে কাগজ দেখে যান বলে সেল ফোনে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, আমি কোন সরকারী খাল দখল করি নাই, আমার জমি মেপে আমি ফ্যাক্টরী করেছি।

যেখানে এলাকার ৯০শতাংশ মানুষ বলছেন এটা সরকারী খাল সেখানে কি করে বিল্লাল খা চ্যালেঞ্জ করে বলে তার কারখানা তার ক্রয়কৃত জায়গায়? সরকারী লোক তাকে এই জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছেন? কিভাবে সম্ভব হলো সরকারি লোকদের তাকে এই সরকারি খালের জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছেন? কত টাকা তিনি খেয়েছেন? প্রশাসনের লোক বিভিন্ন সময় আসে আর কারখানার মালিকদের কাছ থেকে বখরা নিয়ে চলে যায় এমন হাজারো কথা জানিয়েছেন ওখানকার পঁচা পানিতে বসবাস করা মানুষগুলো। তারা আরো বলেন, সরকারি খাল উদ্ধার করার কোন তৎপরতা এ পর্যন্ত লক্ষ করেন নি তারা।

সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী বীরবাড়ির নামকরা এই খালটি উদ্ধার করার দাবী জানান। রাগব বোয়ালদের হাত থেকে সরকারি খাল উদ্ধার করে আমাদের পায়ো:নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। দখল মুক্ত করে জনগনের জন্য উদ্ধার করতে হবে এবং আমরা জনগন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের ভালো কাজে সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন। এলাকার শতশত মানুষের একই কথা,এই খাল সরকারী, কি করে সরকারী খালে বড় দালান করে? এমনও হাজার প্রশ্ন জনগনের।

অত্র এলাকার আমজাদ জানান, উচ্চ মহলের শক্তি নিয়ে সরকারী খাল জোর করে ভরছে। তবে এই উচ্চ মহল যে কারা তার কোন উত্তর দিতে পারেনি, তবে কারেন্ট জালের অর্ধেক টাকাই তাদের উচ্চ মহল বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সদর থানা সহকারি ভূমি কমিশনার মো: সাঈদুজ্জামান খান জানান, আমাকে জেলা প্রশাসক খাল দখল করে বহুতল ভবন হতেই পারে না যদি হয়ে থাকে তবে দ্রুত যারা দখল করেছে এবং বহুতল ভবন করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া জাহান জানান সরকারী খাল বেদখলে কথা জানালে তিনি বলেন আমাদের জেলা প্রশাসক মহদোয় “সবুজে সাজাই মুন্সীগঞ্জ” যে প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তা সফল করার লক্ষ্যে সরকারী খাল উদ্ধারের একটি অংশ। যেখানেই সরকারী খাল সেখানেই উদ্ধার অভিযান চলবে। সরকারী খাল কেউ দখল করে রাখতে পারবে না। সরকারী খাল দখলকারী যেই হউক তারা সমাজের ভাল লোক না বলেও জানান তিনি।

এ বিষয় মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা মহোদয়কে অবগত করলে তিনি ক্ষুব্দ মনে বলে যাহারাই খাল দখল করছেন তার সমাজের ভালো লোক না। আমি আপনাদের মাধম্যে খবর জানলাম, খুব দ্রুত খালের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এনবিএস