চরকেওয়ার ইউনিয়ন নিয়ে বিরোধে উপজেলা আ’লীগের দুই নেতা

কাজী সাবি্বর আহমেদ দীপু: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতা। তারা হলে, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চরকেওয়ার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান জীবন। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণেই সেখানে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত শনিবার ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমশুরা গ্রামে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে মাসুদ নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রহিমকে প্রধান আসামি করে থানায় ওইদিন রাতে হত্যা মামলা হয়েছে।

জানা গেছে আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। গত নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হন। ফলে মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান হন আক্তারুজ্জামান জীবন। সেই থেকে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। দুই নেতার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটছে। গত ১৬ মে আফসার উদ্দিনপন্থি জয়নাল মাতবরকে গুলি ও কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ। তিনি রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ছাড়া ইউপি নির্বাচনের
পরপরই আফসারপন্থি আরেক কর্মী দক্ষিণ চরমশুরা গ্রামের পরাজিত ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদ ফকির ও তার সমর্থকদের এলাকাছাড়া করা হয়। বিজয়ী ইউপি সদস্য মন্টু দেওয়ান ও তার লোকজন তাদের বাড়িছাড়া করে। পরে পুলিশের সহায়তায় তাদের বাড়ি-ঘরে তুলে দেওয়া হয়।

শনিবার বিবদমান দু’পক্ষের সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে মাসুদ নিহত হন বলে গ্রামবাসী দাবি করেছে। তারা জানান, ঘটনার সময় মাসুদ গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়েছিল। ঘাস কাটতে গিয়ে হাত কেটে ফেলায় বাড়িতে এসে পুরনো কাপড় দিয়ে হাত বেঁধে আবারও ঘাস কাটার জন্য যায়। এ সময় একটি পক্ষ মাসুদকে প্রতিপক্ষের সদস্য মনে করে গুলি চালালে তিনি নিহত হন।

এ ব্যাপারে আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া সমকালকে জানান, দক্ষিণ চরমশুরা গ্রামের ইউপি সদস্য মন্টু দেওয়ান বিএনপি করে। তার সঙ্গে রয়েছে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হাকিম মিজি, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বিল্লাল হাজি, বিএনপি নেতা মনসুর, আবুল দেওয়ান ও আফাজ উদ্দিন দেওয়ানসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তিনি অভিযোগ করেন, আক্তারুজ্জামান জীবন এসব বিএনপি নেতাকর্মীকে শেল্টার দিচ্ছেন। তাদের নিয়ে তিনি শান্ত পরিস্থিতিকে অশান্ত করে তুলেছেন।

অপরদিকে আক্তারুজ্জামান জীবন সমকালকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যেসব ব্যক্তিকে আসামি করে এজাহার দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ এর মধ্যে অনেকের নাম বাদ দিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে আফসার উদ্দিন ভূঁইয়ার ভাতিজা হাসেম ভূঁইয়া। তিনি অভিযোগ করেন, আফসার উদ্দিন ভূঁইয়াই বিএনপি নেতাকর্মীদের শেল্টার দিচ্ছেন। বিএনপি নেতা আনিস মাতবর বর্তমানে তার ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্টু দেওয়ান সমকালকে জানান, আবদুর রহিম, নান্নু হাজিসহ ২৮ জনকে এজাহারভুক্ত করে সদর থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কি-না জানতে চাইলে বলেন, আমি বিএনপি করি না।

জানা গেছে, ইউপি সদস্য মন্টু দেওয়ান এবং পরাজিত প্রার্থী হারুন গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আর এ কারণেই শনিবার সকালে দু’পক্ষ সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়।

২৮ জনের নামে হত্যা মামলা :দক্ষিণ চরমশুরা গ্রামে সংঘর্ষে মাসুদ নিহত হওয়ার ঘটনায় তার মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহিমকে প্রধান আসামি করে ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি মো. ইউনুচ আলী মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় হৃদয় নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সমকাল

Comments are closed.