শ্রীনগর বাজারে পাবলিক টয়লেট নির্মিত হচ্ছে খালে : সরকারের ১৯ লাখ টাকা জলে!

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে উন্নয়ন তহবিলের টাকায় খালের মাঝখানে তৈরি হচ্ছে পাবলিক টয়লেট। ১৯ টি টয়লেট নির্মাণের জন্য এই প্রকল্পের চুক্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৯ লাখ টাকা। মূল নকশা বাদ দিয়ে খালের মাঝখানে নির্মিত এই পাবলিক টয়লেটের ট্যাংকির কিছু অংশ এখনই পানিতে ডুবে গেছে। বর্ষা মৌসুমে তা ধসে পরার আশংকা রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন সরকারের এই অর্থ জলে যাচ্ছে!

মূল নকশা বাদ দিয়ে টয়লেটগুলো অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার পেছনে বাজার কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে কোটি টাকা মূল্যের পুরোনো টয়লেটের জায়গাটি দখলের পায়তারার। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নজরে আসলে তারা গত বৃহস্পতিবার কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু শনিবার দুপুরে সরজমিনে দেখা গেছে তাদের নির্দেশকে অমান্য করে পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উপজেলার এক যুবলীগ নেতার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাজল এন্টারপ্রাইজ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শ্রীনগর বাজারের বর্তমান পাবলিক টয়লেটের স্থানে নতুন করে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু দরপত্র অনুসারে বর্তমান পাবলিক টয়লেটের জায়গায় কাজ করার কথা থাকলেও চুক্তির পর তা খালের দিকে প্রায় ৫০ ফুট সরিয়ে দেওয়া হয়। কয়েকদিন আগে উপজেলা যুবলীগ নেতা কাজল দাসের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাজল এন্টার প্রাইজ মূল নকশা বাদ দিয়ে খালের উপর নির্মান কাজ শুরু করে। বর্তমানে খালের মাঝখানে টাংকির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তার পাশেই চলছে টয়লেটের পিলার উঠানোর কাজ। যার কিছু অংশ এখনই পানিতে তলিয়ে গেছে।

বর্ষার শুরুতেই তা পুরো পুরি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে পরলে প্রশাসনের নাকের ডগায় পরিবেশ দুষণ ঘটবে। টয়লেটের মূল নকশা বাদ দিয়ে কিভাবে কাজ হচ্ছে জানতে চাইলে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আ: মমিন জানান বাজার কমিটির অনুরোধে নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আ: মান্নান বলেন, নকশা পরিবর্তনের দায়দায়িত্ব উপ-সহকারী প্রকৌশলীকেই নিতে হবে।

শ্রীনগর বাজার কমিটির সভাপতি বিজয় চক্রবর্তী পুরোনো টয়লেটের জায়গা দখলের বিষয়টি অস্বীকার করলেও নকশা পরিবর্তনের বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান বলেন, যেভাবে টয়লেট নির্মিত হচ্ছে তা কয়েকদিন পরই ভেঙ্গে পরবে। আমি কাজ বন্ধ রাখতে বললেও তা মানা হচ্ছেনা। তবে কার স্বার্থে নকশা পরিবর্তন করে কাজ করা হচ্ছে জানিনা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসার সাথে সাথে তা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি। চোখের সামনে পরিবেশের এমন দুষন কেই মেনে নেবেনা। আমরা ব্যবস্থা নেব। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী যুবলীগ নেতা কাজল দাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।