সিরাজদিখানে কামু বাহিনীর লোমহষর্ক টেটা হামলার ঘটনায় কোন আসামী গ্রেফতার নেই

রকল্পের নামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে ভ’মিদস্যু কামু বাহিনীর লোমহষর্ক টেটা হামলা ও সঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় অস্ত্র মহড়া দিচ্ছেন ও ঘুরে বেরাচ্ছেন। হামলার শ্বিকার জমির মালিক ও তাদের পরিবারের লোকজন অস্ত্রধারী কামু বাহিনীর সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকায় যেতে পারছেন না। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

২১ মে সকালে স্থানীয় চিহ্নিত সস্ত্রাসী সুমন,সুজন,মামুন.সোহাগের নেত্বত্বে কামু বাহিনীর একটি সঙ্গবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রুপ সিরাজদিখান বালুর চরের খাসকান্দি এলাকার বেশ কিছু কৃষি জমি দখল করে একটি ঢাকা নিরাপদ হাউজিং প্রকল্পের সাইনবোর্ড লাগাতে আসলে জমির মালিক এতে বাধা দিলে তাদের উপর এলোপাথারী টেটা হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তারা টেটা হামলা ও এলোপাথারী কোপাইয়া জমির মালিকসহ ১০ জনকে গুরুতর জখম করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে তাদের উপরও হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে উভয় গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ টেটা যুদ্ধেসহ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পরে আশপাশ এলাকায়। এসময় সন্ত্রাসীরা জমির মালিক দীন ইসলামকে খুব কাছ থেকে হামলা চালিয়ে এলোপাথারী ৭ টি টেটা বিদ্ধ তার শরীরের বিভিন্ন অংশে, এতে গুরুতর জখম হয় দিন ইসলাম। টেটার আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষ বিক্ষতসহ পায়ের হাড় চুর্ন বিচুর্ন হয়ে যায়। এ সময় আরো আহত হয়েছেন, সাইফুল, রুবেল,আনোয়ার, রবি, জনি, শহিদ, আবুল হোসেন ও আক্কাস মিয়া। ওসিসহ ব্যপক পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। আহতদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে ব্যার্থ হয়ে ২৫ শে মে আহত দীন ইসলামের বড় ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ আমলী আদালত-২ এ সি.আর- ১২০/১০ নাম্বার মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে ২৬ শে মে সিরাজদিখান থানায় ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি এজাহার ভুক্ত হয়। লোমহর্যক এই ঘটনায় থানায় মামলা এজাহার ভুক্ত হওয়ার ১১ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে বালুরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যন আমিন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এলাকায় এতো বড় একটি টেটা হামলার ঘটনা ঘটল তা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কোন অভিযান নেই। আসামীরা প্রকাশ্যে। মানুষের মধ্যে কোন নিরাপত্তা নেই। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। খাসকান্দি গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত হোসেন বলেন, কামু বাহিনী জোর পূর্বক হাউজিং কম্পানীর নামে আমার জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা আমার জমিতে বাধ দিয়ে মাটি ভরাটের যাবতীয় কার্যত্রমের উদ্দ্যেগ গ্রহন করেছেন। এ ব্যাপারে সিরাজদিখান থানায় সাধারন ডায়ীরী করেছি যার নাম্বার-১৩৪ তারিখ- ০৪.০৬.১৭।

তিনি আরো বলেন, কামু বাহিনরি টেটা হামলার পর এলাকায় কোন নিরাপত্তা নেই। আসামীরা প্রকাশ্যে এলাকায় অস্ত্র মহড়া দিচ্ছেন ও ঘুরে বেরাচ্ছেন। তাদের আতংক ছড়িয়ে পরেছে গ্রামবাসীর মধ্যে তারা প্রকাশ্যে এভাবে আরো অনেকের জমি দখল করে নিয়েছেন। প্রতিবাদ করতে গেলেই জমির মালিকদের ভয়ভিতি ও মারধর করা হয়। মামলার বাদী নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের পৈত্তিক সম্পত্তি কামু বাহিনী নিরাপদ হাউজিং কম্পানীর নামে দখল করে সাইন বোর্ড স্থাপন করতে আসলে আমরা বাধা দেই এসময় তারা আমাদের উপর টেটা হামলা করে। আমার ভাই দিন ইসলামকে কাছ থেকে হত্যার উদ্দেশ্যে পর পর ৭টি টেটা বিদ্ধ করে। বর্তমানে সে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। এ পর্যন্ত তার ৪ টি অপারেশন হয়েছে। আসামীরা আমাদের হুমকী দিচ্ছে। এলাকার লোকজনের নিরাপত্তা নিস্তিতসহ সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার কামনা করি। সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইয়ারদৌস হাসান বলেন, সর্ঘষের সময়টা ভয়াবহ ছিল আমার উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছি। ৩শ টেটা উদ্ধার করা হয়েছে। আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ক্রাইম ভিশন