পদ্মায় এলো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হ্যামার

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হ্যামার এসেছে পদ্মার পাড়ে। হ্যামারটি তিন হাজার কিলোজুল শক্তিসম্পন্ন। এর ওজন ৩৮০ টন। শিগগিরই এটি পদ্মাসেতুর জাজিরা প্রান্তে অবশিষ্ট পাইল ড্রাইভের কাজে যোগ দেবে।

সোমবার (০৬ মে) সকালে পদ্মা সেতুর নির্মাণ এলাকা মাওয়ায় এসে পৌঁছায় হ্যামারটি। জার্মানি মিউনিখে তৈরি হ্যামারটি গত ২৭ এপ্রিল নেদারল্যান্ডের পোর্ট অব রটারড্যাম থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয়। ৩৯ দিন শেষে এটি মাওয়ায় এসে পৌঁছায়।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান আবদুল কাদের বাংলানিউজকে জানান, হ্যামারটি (আইএইচসি ৩০০ ) মাওয়ায় এসেছে । এখন পর্যন্ত এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হ্যামার। এক সপ্তাহের মধ্যে এসেম্বলি হওয়ার পর সেতু প্রকল্পের পাইলিং কাজে যোগ দেবে হ্যামারটি।

তিনি আরও জানান, গত ২৭ এপ্রিল নেদারল্যান্ডে পোর্ট অব রটারড্যাম থেকে রওনা দিয়ে ৩৯ দিন শেষে মাওয়ায় পৌঁছেছে হ্যামারটি।

পদ্মা সেতুতে বর্তমানে যে দুটি হ্যামার ব্যবহৃত হচ্ছে তার একটি ২৪০০ এবং ২০০০ কিলোজুল শক্তি ক্ষমতার।পদ্মা সেতুর নির্মাণস্থলে জাহাজে করে ডেনমার্ক থেকে নিয়ে আসা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হ্যামারসেতুর প্রকৌশলীরা জানান, মাওয়া প্রান্তে মূল সেতুর ৩, ৪ এবং ৫ নম্বর পিয়ারের কাজ ২৪০০ কিলোজুল হ্যামার দিয়ে চলছে। নতুন হ্যামারটি জাজিরা প্রান্তের ৪১ নম্বর পিয়ারে অবশিষ্ট দু’টি পাইল ড্রাইভ কাজে যোগ দেবে। ৪১ নম্বর পাইলের কাজ শেষে ৩৪,৩৩, ৩২, ৩১ এভাবে মাওয়ার দিকে এগুতে থাকবে বিশ্বের শক্তিশালী এ হ্যামারটি।

চায়না মেজর ব্রিজ (এমবিইসি) প্রকৌশলীদের বর্ণনা মতে, কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে বার্জে তুলে পাইল নিয়ে আসার পর তা গোলাকার গাইডিং ফ্রেমে তোলা হয়। গাইডিং ফ্রেমের হাইড্রলিক জ্যাকের সাহায্যে তা ১/৬ অনুপাতে স্টেবল করা হয়। তারপর ক্রেনের সাহায্য হাইড্রলিক হ্যামার দিয়ে পাইল পদ্মার তলদেশে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়।

দেশের ৬ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ দ্রুত ও সহজ করতে পদ্মা সেতু তৈরি হচ্ছে। স্বাধীনতার পর এটাই দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেতু বিভাগ বাস্তবায়ন করছে পদ্মা সেতু। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারে দ্বিতলবিশিষ্ট এই সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে ২০১৮ সালে। একযোগে চালু হবে সড়ক ও রেল চলাচল।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *