চরকিশোরগঞ্জ: সেতুর অভাবে গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন!

মুন্সিগঞ্জ শহরের মধ্যকার একটি গ্রাম চরকিশোরগঞ্জ। এ গ্রামের প্রায় পুরোটাই নদীবেষ্টিত। ফলে গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে যাতায়াতের জন্য নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়।

স্বাধীনতার পর থেকেই মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরকিশোরগঞ্জ (মোল্লাপাড়া) গ্রামের মানুষের দাবি, সড়ক যোগাযোগের জন্য এ গ্রামে একটি সেতু হোক। কিন্তু আজও সেতু হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামটির পূর্ব ও উত্তর দিকে ধলেশ্বরী এবং পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে শাখা ধলেশ্বরী নদী। উত্তর দিকে গ্রাম-লাগোয়া একটি চর আছে। বর্ষায় এ চরটিও ডুবে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে এ চর দিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় যাতায়াত করা যায়। গ্রামটির আয়তন প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার। লোকসংখ্যা প্রায় ছয় হাজার।

গ্রামের অন্তত ১৫ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলের নেতারা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু কেউ কথা রাখেননি। দুই বছর আগে এক ব্যক্তির উদ্যোগে নদী পারাপারের জন্য একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। তবে মাত্রাতিরিক্ত চাপের কারণে সাঁকোটি এক বছরের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। অনুন্নত যোগাযোগের কারণে শহরের মধ্যের এ গ্রামটি পিছিয়ে গেছে। ঝড়-বৃষ্টি ও রোধে নদী পারাপারের জন্য স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নদীর পাড়ে বসে থাকতে হয়। প্রতিবছর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর আশপাশের বিলের কচুরিপানা এসে জমা হয় এ নদীতে। এ সময় নদী অনেক ঘুরে পার হতে হয়। পার হতে প্রায় এক ঘণ্টা লেগে যায়।

ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুলতান বেপারী বলেন, ‘আমাদের গ্রামের মানুষের অর্ধশত বছরের স্বপ্ন, শহরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের জন্য একটা সেতু হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এ গ্রাম থেকে পাঁচ থেকে ছয় শ ছেলেমেয়ে স্কুল-কলেজে যায়। তাদের নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। নদী পার হতে প্রায়ই তাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিভিন্ন সময় গুরুতর রোগী নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এমনকি নৌকার মধ্যেই রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।’

এলজিইডির জেলা প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘এ কাজ আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তা-ও যদি আমাদের কাছে মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমরা করব।’

মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার আক্তার হায়দার বলেন, ‘এর আগে মাটি পরীক্ষা করেছিলাম। এ বিষয়ে জানতে হলে মেয়র সাহেবের কাছ থেকে জানতে পারেন।’

প্রথম আলো