শ্রীনগরে ছাত্রীকে থানায় ডেকে নষ্টা অপবাদ দিলেন ওসি (তদন্ত)!

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে লন্ডন প্রবাসীর দ্বারা স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীকে ওসি (তদন্ত) থানায় ডেকে নিয়ে উল্টো নষ্টা অপবাদ দিয়ে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় শ্রীনগর থানায় এঘটনা ঘটে। থানা থেকে বের হয়ে ওই ছাত্রী কান্নায় ভেঙ্গে পরলে বিষয়টি তার পরিবার তাৎক্ষনিক শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ও মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম কে তা অবহিত করেন। এর আগে উপজেলার একটি স্কুল এন্ড কলেজের ওই ছাত্রীর নগ্ন ছবি ও ভিডিও তার লন্ডন প্রবাসী প্রেমিক হাঁসাড়া গ্রামের রুবেল মাঝি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ায় তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ওই ছাত্রী দু’বার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করার চেষ্টা করে ।

ওই ছাত্রীর পরিবার জানায়, এঘটনায় ছাত্রীর বাবা শ্রীনগর থানায় অভিযোগ দায়েরের চারদিন পরও পুলিশ মামলা না নেওয়ায় পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে গত ২১ মে নতুন ভাবে অভিযোগ নিয়ে হাঁসাড়া গ্রামের লন্ডন প্রবাসী রুবেল মাঝিকে প্রধান আসামী করে তার বাবা মা সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা নেয় পুলিশ। গত কয়েকদিনে কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) কাজী শরিফুল ইসলাম তদন্তের নামে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে ২ দিনের মধ্যে লিখিত জবানবন্দী থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। বুধবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী তার মা ও তিন আতœীয়কে সাথে নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত জবানবন্দী জমা দিলে কাজী শরিফুল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং এই জবানবন্দী হবেনা বলে তা ছুড়ে ফেলে দেন। এর পর ওই ছাত্রীকে তিনি জেরা শুরু করেন। এসময় তিনি ওই ছাত্রীকে অপবাদ দিয়ে বলেন, আরো ৬/৭ জনের সাথে তোমার শারিরীক সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে। এসময় ছাত্রীর মা জানতে চান আমরাতো কোন ধর্ষনের মামলা করিনি তাহলে ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে কেন? এতে ওসি (তদন্ত) আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং ওই ছাত্রীকে নষ্টা অপবাদ দিয়ে তার মাকে সহ থানা থেকে বের করে দেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ওই ছাত্রী মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি জেলা প্রশাসক শায়লা ফারজানা কে জানালে তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করেন এবং ওই ছাত্রীকে কোন রকম হয়রাণী না করার নির্দেশ দেন।

কান্না জড়িত কন্ঠে দশম শ্রেণীর ওই ছাত্রী জানায়, ৪/৫ বছর আগে আওলাদ মাঝির ছেলে রুবেল মাঝি ফুঁসলিয়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। প্রায় চার বছর আগে রুবেল লন্ডন চলে যায়। প্রায় সময়ই সে মোবাইল ফোনের ভিডিও কলে ওই ছাত্রীর সাথে কথা বলতো। ছেলের সাথে সম্পর্কের কারণে রুবেলের পরিবার ওই ছাত্রীকে বউ করে নিতে রাজি হয় । রুবেল বিভিন্ন সময়ে হবু স্ত্রী হিসাবে কথা বলে ওই ছাত্রীর কিছু নগ্ন ছবি ও ভিডিও হাতিয়ে নেয়। কিছু দিন আগে রুবেলের পরিবার কোন কারণ ছাড়াই বেঁকে বসে এবং ছেলের উপর চাপ সৃষ্টি করে। রুবেল প্রথমে নিরব থাকলেও পরে ওই ছাত্রীকে জানিয়ে দেয় পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। এনিয়ে রুবেলের সাথে ওই ছাত্রীর কথা কাটা-কাটি হয়। এর জের ধরে রুবেল ওই ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও মোবাইল ফোন ও নেটে ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি ওই এলাকায় ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় ওই ছাত্রী দু’বার গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করতে যায়। কিন্তু পরিবারের লোকজনের চোখে পরে যাওয়ায় দু’বারই সে বেঁচে যায়।

নিরুপায় হয়ে ওই ছাত্রীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করে। কিন্তু মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুপ আচরনে তারা মূষড়ে পরেছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, মামলা হওয়ার পর পরই স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল মেম্বারের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র মেয়ের পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও পুলিশের সাথে লিয়াজো করে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে নজরুল মেম্বার তা অস্বীকার করেন।

এব্যাপারে শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) কাজী শরিফুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আসলে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। আমি ওই মেয়েকে কোন অপবাদ দেইনি বা ডিএনএ টেষ্টের কথা বলিনি।

ক্রাইম ভিশন