বাংলাবাজারে ড্রেজার দিয়ে জমি কেটে নদী তৈরি করছে ভূমিদস্যু

এলাকা বাসী জিম্মি করে নাম মাত্র জমি ক্রয়: ড্রেজার দিয়ে জমি কেটে নদী তৈরি করছে ভূমিদস্যু মুন্সীগঞ্জ সদর থানার বাংলাবাজার ইউনিয়নের একটি ভূমিদস্যু চক্র এবং সন্ত্রাসী এলাকার নদী ঘেষা নাম মাত্র জমি কিনার অজুহাতে নদীকে আরো বড় নদীতে রুপান্তর করছে। কেউ তাদের ভয়ে প্রতিবাদ থাক দূরের কথা পর্যালোচনা পর্যন্ত করা বারণ। যদি কেউ এ বিষয়ে আলাপ করে তাদের নিশিরাতে রিমান্ডে যেতে হবে। এমন হুমকির মধ্যে রয়েছে এলাকাবাসী। নাম না বলা শর্তে কথাগুলো বললেন একজন এলাকার কৃষক। সরোজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা যায় ড্রেজার দিয়ে এক জায়গাতেই ড্রেজার একহাজার গজ নতুন নদীর রুপ। নদী খনন করার জন্য এই সন্ত্রাসী গ্রুপটিই যথেষ্ট। জমি কেটে মুহুর্তেই নদী বানিয়ে ফেলতে পারে এরা।

ড্রেজার কর্মচারি রতন বলেন আমাদের মহাজন এই এলাকার জমি কিনেছেন তা এখন কাটলে ভরাবর্ষায় ভরে যাবে। কত টাকায় কিনছে? ৬/৭ লক্ষ টাকার কথা বললেন, মালিকের নাম বলতে পারি না। তবে অনেক মানুষই নদীর এলাকাতে ফসল না হওয়াতে জমি বিক্রী করেছে। টিএন ও সাহেব আসছেন আমিন নিয়ে তারা নদী এলাকা মেপে গেছেন। আমরা যাদের কাজ করছি তাদের কথা মতোই বালু কাটছি। আপনাদের আগেও সাংবাদিক এসে দেখে গেছেন। মোঃ সফিউদ্দিন মিঝি আমাদের মহাজন তার সাথে কথা বলেছেন? প্রশ্ন করেছেন কর্মচারী।

সফিউদ্দিন মিঝির সাথে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান যাহারা আমার বিষয় আনিত অভিযোগ করছেন তাহা মিথ্যা। আমি ব্যাবসা করছি সত্য, তবে জমি কিনেই করছি, কারো জমি দখল করে নয়। প্রশানের লোক আমার কাছে মাঝে মধ্যে যায়, তারাও তো দেখছেন আমার কাজ। তিনি সাংবাদিক ও প্রশাসনের লোকদের টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাবাজারে আতঙ্কের নাম সফি মিঝি। তাহার বিষয় খবর নিয়ে জানা যায় এলাকার সন্ত্রাস, চাদাবাজীতে তার নিয়ন্ত্রনেই হয়, আর সে সুবাদে নদীর ডাকাতিতে সে এখন একক আধিপত্ব বিস্তার করেছে। নদী পথে ডাকাতির বিদেশী মেশিন (অস্ত্র) তার কাছে বিশাল ভান্ডার। সফি মিঝির নামে বিভিন্ন থানায় একাদিক মামলা রয়েছে বলেও এলাকা বাসী জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী চাদাবাজ, সন্ত্রাস ও নদীপথের ডাকাত হিসেবেই সফি মিঝিকে ভয় পায় বলে এলাকাতে কেউ কোন অভিযোগ করতে সাহস পায় না। তবে সফি মিজি ঠান্ডা মাথার খুনি হিসেবেই অনেকের কাছে ভয়ের বিষয়। সফিমিঝি নিজেই বলেন তাহার কাছে পুলিশ সবসময় যোগাযোগ রাখেন।

সফি মিঝিকে ফোন করে বিভিন্ন বিষয় জানার চেষ্টা করা হয়, তিনি জানান, তাহার বিরুদ্ধে কোন মামলা নাই, আমি রাজনীতি করি সত্য।

নাম না বলার শর্তে একাধিক ব্যাক্তি যানান সফি মিঝি সাজা পাপ্ত আসামী, তার একাধিক মামল রয়েছে, বাবলা বাহিনীর প্রধান হিসাবে সফি মিঝির কর্মকান্ড চলছে বাংলাবাজার আধীপত্ব। গত সপ্তােেহ চর আব্দূল্লাহ বরযাত্রী ডাকাতির মুল হোতা ছিলেন সফি মিঝি। ঐ বরযাত্রী ডাকাতিতে বর পক্ষ ডাকাতদের চিনে ফেলার পরও কোন মামলা করতে বাধা দেন অত্র এলাকার বাচ্চু মেন্বার বলে পরিচিত ও সফি মিঝি।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ও অত্র এলাকার ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মিজাননুর রহমান জানান, সফি মিঝি জমি কেটে নদী করছে এটা সম্পূর্ণ অবৈধ্যভাবে করছে। তাহার বিরুদ্ধে ঢাকা, মতলব উত্তর থানা সহ বাংলাদেশের আরো অনেক থানাতে নামে বেনামে মামলা রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।

বাংলাবাজার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ সোহরাব হোসেন পীর বলেন আমি সফি মিঝিকে একাদিক বার বলেছি অবৈধ কাজটি না করার জন্য। সফি মিজি আমার কথায় উল্টো বলতেন জমি কিনেই জমি কাটছি, আপনি এ বিষয় কিছু বলেন কেন ?

এবিষয় জেলা প্রশাসক মহোদয়কে ফোনে পাওয়া যায় নাই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া জাহান বলেন আমাদের এ বিষয় কোন তথ্য কেউ দেয় নাই। তবে এখন জানলাম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনবিএস