হরগঙ্গা কলেজ: পাঁচ হাজার ছাত্রের জন্য ৯৬ আসনের ছাত্রাবাস

কাজী সাবি্বর আহমেদ দীপু: মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি হরগঙ্গা কলেজের দুটি ছাত্রাবাসের মধ্যে একটি ছাত্রাবাস ৯ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে ৫ হাজার ছাত্রের জন্য ৯৬ আসনের একটিমাত্র ছাত্রাবাস রয়েছে। এর ফলে ছাত্রদের আবাসন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ছাত্রাবাসে জায়গা না পেয়ে অন্যান্য জেলা থেকে আসা ছাত্রদের বাধ্য হয়ে মেসে কিংবা ভাড়াবাড়িতে থাকতে হচ্ছে। এতে ছাত্রদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটছে।

অন্যদিকে ৯ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও চলতি বছর পর্যন্ত ২০০ আসনের তিন তলা ছাত্রাবাসটি ভেঙে নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের উদ্যোগ ফাইলবন্দি হয়ে রয়েছে। বছরের পর বছর কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বারবার চিঠি পাঠানোসহ নানাভাবে যোগাযোগ করলেও এখনও নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ১৯৪০ সালে নির্মিত ২০০ আসনের তিন তলা হরগঙ্গা মহাবিদ্যালয় ছাত্রাবাসটি দীর্ঘ সময় ব্যবহার ও সংস্কার না করায় ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। দরজা, জানালা না থাকায় পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসটিতে এখন ময়লা-আবর্জনা, মলমূত্র ফেলার কাজে ব্যবহার হচ্ছে। রাতের বেলায় এখানে অনেক সময় মাদকসেবীরা আনাগোনা করে থাকে। অন্যদিকে সচল থাকা ১৯৯৫ সালে নির্মিত শহীদ জিয়াউর রহমান ছাত্রাবাসটির অবস্থাও শোচনীয়। ৯৬ আসনের এ ছাত্রাবাসটি সচল থাকলেও এর স্যাঁতস্যাঁতে দেয়াল, ভাঙা বেসিন, দরজা ভাঙা, নোংরা টয়লেটসহ নানা দুর্ভোগে কাটছে ছাত্রদের ছাত্রাবাস জীবন। এ ছাত্রাবাসটিও এখন সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ ছাত্রাবাসে দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে বসবাসরত গজারিয়ার পুরান বাউশিয়া এলাকার অনার্স পরীক্ষার্থী মো. নাজমুল সরকার জানান, শহীদ জিয়াউর রহমান হল নামে ছাত্রাবাসেরও করুণ অবস্থা। ৩টি টয়লেটের মধ্যে ২টি সচল থাকলেও একটি অকেজো। ৩টি ওয়াশ রুমের মধ্যে একটি অকেজো, ২টি সচল থাকলেও তারও অবস্থা করুণ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং হওয়ায় লেখাপড়ায় বিঘ্ন সৃষ্টির পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে রুমে থাকাও দুষ্কর হয়ে পড়ে।

অপর এক শিক্ষার্থী জানান, ঐতিহ্যবাহী এ কলেজে একটি মাত্র ছাত্রাবাস থাকার পাশাপাশি আসন সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় ছাত্রদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়। অনেক সময় মেঝেতে ঘুমাতে হয়। বিপুল সংখ্যক ছাত্রের বিপরীতে ৯৬ আসনের একটি ছাত্রাবাস তেমন কোনো উপকারেই আসছে না বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ছাত্রদের।

কলেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি কোর্স ছাড়াও ১৫টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও ৭টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজার ৪শ’। এর মধ্যে ছাত্র রয়েছে প্রায় ৫ হাজার। ছাত্রীদের জন্য একটি ছাত্রীনিবাস রয়েছে। এদিকে ছাত্রীনিবাসে যাওয়ার রাস্তা সরু। তার ওপর খানাখন্দে ভরা। সরু রাস্তায় বিদ্যুতের খুঁটিতে লাইট না থাকায় রাত হলেই অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়রকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

কলেজের প্রধান সহকারী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, পুরাতন ছাত্রাবাসটি ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হলেও আবার থেমে যায়। গত দুই মাস ধরে আবারও এটি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরিত্যক্ত ছাত্রাবাসের স্থানে ১০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে। আর নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের জন্য সচল থাকা ছাত্রাবাস সংলগ্ন দক্ষিণ দিকে খালি জায়গায় প্রাথমিক স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মীর মাহফুজুল হক জানান, পরিত্যক্ত ঘোষণা করা পুরাতন ছাত্রাবাসটি ভেঙে ফেলতে নতুন করে দরপত্র

আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত এই আবাসন সংকট মোচন হবে না।

মুন্সীগঞ্জ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইনামুল হক জানান, পুরাতন ছাত্রাবাসটি নিলামে দেওয়ার জন্য আনুমানিক মূল্য ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল অনেক আগে। তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবার নতুন করে প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।

সমকাল